শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

| ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

বধ্যভূমি, বীরযোদ্ধা ও বিজয়ের রক্তাক্ত স্মৃতি

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮:৩৩, ১১ নভেম্বর ২০২৫

বধ্যভূমি, বীরযোদ্ধা ও বিজয়ের রক্তাক্ত স্মৃতি

কুমিল্লার লাকসামে রেলওয়ে জংশনের অদূরে বধ্যভূমি। ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কুমিল্লা পরিণত হয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদরদের ভয়াবহ ত্রাসের রাজ্যে। জেলাজুড়ে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন ও নির্বিচার ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। লাকসামের একটি সিগারেট ফ্যাক্টরিতে হানাদাররা হামলা চালিয়ে অগণিত মানুষকে হত্যা করে। রেলওয়ে জংশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেন থেকে যাত্রীদের নামিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

প্রতিনিয়ত জেলার বিভিন্ন স্থানে চোখ বেঁধে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হতো সাধারণ মানুষকে, যাদের লাশ পরে গোপনে পুঁতে ফেলা হতো। আজও কুমিল্লার মাটির নিচে মেলে সেই ভয়ংকর স্মৃতির নিদর্শন—মানব খুলি ও হাড়গোড়। ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট, বেলতলী, ধনাঞ্জয়, দিশাবন্দ, ঘিলাতলা, রসুলপুর ও হোমনার বধ্যভূমিতে অসংখ্য শহীদের চিহ্ন আজও ইতিহাস বহন করে।

কুমিল্লার বিবির বাজার সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর ৩৯তম বালুচ রেজিমেন্টের সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। প্রথমে কিছুটা পিছু হটলেও মুক্তিযোদ্ধারা পুনরায় সংগঠিত হয়ে হানাদারদের উপর পাল্টা আক্রমণ চালায়। চার-পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এই যুদ্ধে প্রায় ১৫০ পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়। মুক্তিবাহিনীর এক যোদ্ধা শহীদ হন ও আরও কয়েকজন আহত হন।

এই যুদ্ধ কুমিল্লায় মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবলকে দৃঢ় করে তোলে, যা পরবর্তীকালে পুরো দক্ষিণাঞ্চলকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিশক্তিতে উদ্দীপ্ত করে।
কর্নেল আকবর, লে. মাহবুব ও লে. কবিরের নেতৃত্বে ‘কে ফোর্স’-এর একটি সাব-সেক্টর স্থাপন করা হয় কুমিল্লার দক্ষিণে নির্ভয়পুরে। সুবেদার আলী আকবর পাটোয়ারীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম-কুমিল্লা রেলপথে একাধিক সেতু উড়িয়ে দেন। এতে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে, পাকিস্তানি বাহিনী কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

চৌদ্দগ্রামের বেতিয়ারা গ্রামে ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর তীব্র যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে ১১ জন গেরিলা শহীদ হন। পরদিন স্থানীয় চেয়ারম্যান আগা আজিজুল হক চৌধুরী শহীদদের লাশ দাফন করেন। স্বাধীনতার পর তাদের হাড়গোড় উত্তোলন করে বর্তমান বেতিয়ারা শহীদ মিনারের পাশে কবরস্থ করা হয়।

প্রতিবছর ১১ নভেম্বর ‘বেতিয়ারা দিবস’ পালন করা হয় এই বীর শহীদদের স্মরণে।

নভেম্বরের শেষদিকে মুক্তিবাহিনীর আক্রমণে পাকিস্তানি সেনারা টিকতে না পেরে পলায়ন শুরু করে। ২৮ নভেম্বর চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথ দিঘি এলাকা মুক্ত হয়, যা কুমিল্লার প্রথম মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

৩ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনী ময়নামতি আক্রমণ করে। ৬ ডিসেম্বর মুক্ত হয় মুদাফফরগঞ্জ, আর ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লায় প্রথমবারের মতো উড়ানো হয় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় পুরো কুমিল্লা।

কুমিল্লার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুধু রক্ত ও অশ্রুর নয়, এটি বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও অদম্য সংগ্রামের ইতিহাস। আজও জেলার প্রত্যেকটি বধ্যভূমি, প্রতিটি শহীদ মিনার স্মরণ করিয়ে দেয় স্বাধীনতার মূল্য—অগণিত শহীদের রক্তে লেখা এক অনন্ত বিজয়গাঁথা।

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ:

তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে সরকারের কোনো বাধা নেই: প্রেস সচিব
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাল থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু
ব্যবসায়ীদের কমফোর্ট জোন দিতে ব্যর্থ রাজনীতি: জামায়াত আমির
অবস্থার উন্নতি হলে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি
ই-রিটার্নে রেকর্ড: ২০ লাখের বেশি রিটার্ন দাখিল
খেলাপি ঋণ সংকট কাটাতে ১০ বছর লাগবে: গভর্নর
ফ্লাই করার মতো অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া—এভারকেয়ার থেকে জানালেন মান্না
এভারকেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ বিএনপির
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
খালেদা জিয়াকে সিঙ্গাপুর বা ইউরোপে নিতে এয়ারঅ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত
খালেদা জিয়াকে নিয়ে মুশফিকুলের আবেগঘণ স্মৃতিচারণ ‘আমার ব্যক্তিগত ঋণ’
‘লুটপাটকারীদের শাস্তি দিন, কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বেকারত্ব বাড়াবেন না’ — মির্জা ফখরুল
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যা বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থায় রাষ্ট্রপতির গভীর উদ্বেগ
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় উপদেষ্টার পরিষদের সভায় দোয়া
তফসিল কবে জানালেন সিইসি নাসির উদ্দিন
দুটি বিতর্কিত অভিযানের পর র‍্যাব-১৫–এ ‘গণবদলি’
বেগম জিয়া গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অনন্য অনুপ্রেরণা: নাহিদ ইসলামের বিবৃতি
দেশে ফেরার বিষয়ে কথা বললেন তারেক রহমান
ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে