জুলাই বিপ্লবকে ‘তথাকথিত’ বলায় বিচারের আদেশ পুনর্বিবেচনা চান ইনু
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩:৪৮, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু। ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ‘তথাকথিত বিপ্লব’ আখ্যায়িত করা, বর্তমান সরকারের বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং ইনডেমনিটি প্রসঙ্গে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিচার শুরুর আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ ইনুর আবেদনের বিষয়ে আংশিক শুনানি হয়। তবে ইনুর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে ইনুর বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু ইনুর আবেদনে দাবি করা হয়েছে—বর্তমান সরকারের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা নেই,জুলাই বিপ্লব নাকি ‘সো-কল্ড’ও সরকার নাকি সবাইকে দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) দিচ্ছে।
প্রসিকিউটর বলেন,“এসব বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। সরকার কাউকেই দায়মুক্তি দেয়নি।”তবে এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল কোনো আদেশ দেয়নি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন হিসেবে আগামী ৩০ নভেম্বর ঠিক করা হয়েছে।
২ নভেম্বর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে ২৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে আনা ৮টি অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে ইনু নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন।
তার আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন- অভিযোগগুলো অসত্য,ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রাপ্য,ট্রাইব্যুনাল যেন অভিযোগগুলো আরও গভীরভাবে যাচাই করে।
গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত ও অনেকে আহত হওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন জমা দেয় এবং প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে।
ইনু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদে জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজ আসনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
