প্লট দুর্নীতি: সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫ বছর কারাদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২:৩১, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
সজীব ওয়াজেদ জয়। ছবি : সজীব ওয়াজেদের এক্স থেকে।
ঢাকার পূর্বাচলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে করা আলাদা তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রতিটি মামলায় ৫ বছর করে কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।
তিন মামলায় আসামি ৪৭, ব্যক্তি ২৩
পৃথক তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৭ জন হলেও ব্যক্তি হিসাবে এই সংখ্যা ২৩। শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ছাড়াও অপর ২০ আসামি হলেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) শফি উল হক, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, রাজউকের সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) নায়েব আলী শরীফ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, উপপরিচালক হাবিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মাদ সালাউদ্দিন।
আসামিদের মধ্যে একমাত্র মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বর্তমানে গ্রেফতার আছেন।
শেখ হাসিনার সাজা ও জমি গোপনের প্রমাণ :এই তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৯১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণে আদালতে উঠে আসে—রাজধানীতে নিজেদের নামে জমি থাকা সত্ত্বেও তা গোপন করে সরকারি প্লট নেন শেখ হাসিনা ও তার ছেলে-মেয়ে।
অভিযোগে বলা হয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ৩০ কাঠা প্লট অবৈধভাবে নেয়ার অভিযোগে মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাজউকের আবাসন নীতি লঙ্ঘন করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে ছেলে-মেয়েসহ নিজের নামে সরকারি জমি নেন শেখ হাসিনা এবং এসময় তিনি মিথ্যা হলফনামাও দাখিল করেন।
আদালতে আসামিদের উপস্থিত হতে সমন, গ্রেফতারি পরোয়ানা ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও কেউই হাজির হননি। ফলে পলাতক অবস্থাতেই শেখ হাসিনাসহ ২৩ জন আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ সম্পন্ন হয় এবং রায় ঘোষণা করা হয়।
মূলত গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ একের পর এক সামনে আসতে থাকে। রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির এই মামলাগুলো সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে গুরুত্ব পেয়ে আসে।
