প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি:
তিন মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড
প্রকাশ: ১২:০৪, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
সাবেক প্রথানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি।
ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা তিন আলাদা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে তিন মামলায় পৃথকভাবে ৭ বছর করে মোট ২১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। আদালত বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ এবং প্রাপ্যতার বাইরে সম্পত্তি বরাদ্দ নেওয়া দুর্নীতি দমন আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
রায়ের মূল বিষয়গুলো
পূর্বাচলে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তের ভিত্তিতে তিনটি পৃথক চার্জশিট দাখিল।আজ ঘোষিত রায়ে তিন মামলার প্রতিটিতে ৭ বছর করে, মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড।রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষ ও আশপাশ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বজায় ছিল।
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত এই মামলাগুলো ২০২৩ সালে দুদকের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন ক্ষমতাসীন অবস্থায় শেখ হাসিনা সরকারি নীতিমালা ও বরাদ্দ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে নিজ সুবিধার্থে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্লট বরাদ্দ নেন।
তদন্তে দেখা যায়—প্লট বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও শর্তাবলি পূরণ করা হয়নি,বরাদ্দে ভূয়া নথি ও প্রভাববিস্তার অভিযোগ পাওয়া যায়।
ভূমি বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় কর্মকর্তাদের চাপ প্রয়োগের প্রমাণ দুদকের হাতে আসে।
এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর ২০২৪ সালে শেখ হাসিনাকে প্রধান অভিযুক্ত করে তিন মামলা দায়ের করা হয়। বিচারপ্রক্রিয়ার পুরো সময়জুড়ে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে—এ ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার রাষ্ট্রীয় ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির চক্রকে আরও শক্তিশালী করেছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিল যে, মামলাগুলো ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তবে আদালত তার যুক্তিতে বলেন, “সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নীতিবহির্ভূতভাবে বরাদ্দ নেওয়া স্পষ্টতই দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”
