বেনজীরের স্ত্রী-কন্যার আয়কর নথি জব্দের আদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯:২৩, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-কন্যা। ফাইল ছবি
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জীশান মির্জা ও মেয়ে তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের আয়কর নথি জব্দের আদেশ এসেছে।
এই তিনজনের আয়কর নথি জব্দে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের আলাদা তিনটি আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার (২৬ নভেম্বর) তা মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজের আদালত।
বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, তাদের আয়কর নথি দুদককে সরবরাহে ঢাকার কর অঞ্চল-২০ কে নির্দেশ দেন আদালত।
গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর, তার স্ত্রী জীশান মির্জা এবং দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসীন রাইসার বিরুদ্ধে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদ অর্জনের’ অভিযোগে চারটি মামলা করে দুদক। স্ত্রী-কন্যাদের বিরুদ্ধে মামলায়ও বেনজীরকে আসামি করা হয়েছে।
১৫ ডিসেম্বর ‘অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগে ডিবির হারুন, তার স্ত্রী ও হারুনের ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
সাবেক আইজিপি বেনজীরের স্ত্রী জীশানের নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ‘মিথ্যা’ তথ্য দিয়ে ১৬ কোটি এক লাখ ৭১ হাজার ৩৩৬ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য ‘গোপন’ করেছেন। এছাড়া ৩১ কোটি ৬৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৪৯ টাকা মূল্যের জ্ঞাত ‘আয়বহির্ভূত’ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। তার স্বামী বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে জীশানকে অপরাধে সহায়তা করার অভিযোগ এনেছে দুদক।
এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি তুলে ধরে দুদক বলেছে, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জীশানের সব আয়কর রিটার্নসহ সংশ্লিষ্ট নথি জব্দ করে পর্যালোচনা প্রয়োজন।
বেনজীরের মেয়ে তাহসীন রাইসার আয়কর নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়েছে, তিনি পাঁচ কোটি ৫৯ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫ টাকার জ্ঞাত ‘আয়বহির্ভূত’ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে মেয়েকে এ অপরাধে সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে বেনজীরের বিরুদ্ধে।
এ অভিযোগে মামলার বিষয়টি তুলে ধরে দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাহসীন রাইসার আয়কর নথি জব্দ করা প্রয়োজন।
৮ জানুয়ারি আরও একবার জীশান মির্জা ও তাহসীনা রাইসার আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
ডিবির হারুনের আয়কর নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ করে ১৭ কোটি ৫১ হাজার ১৭ হাজার ৮০৬ টাকার জ্ঞাত ‘আয়বর্হিভূত’ সম্পদ অর্জন করেছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার আয়কর নথি জব্দ করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
