শেয়ারবাজারে কারসাজি
সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন গড়াল মার্চে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮:৫৩, ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৯:৪৬, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। ফাইল ছবি।
ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, তার মা শিরিন আক্তারসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রতিবেদন জমার দিন আরও চার মাস পিছিয়ে আগামী বছরের ৩ মার্চ ধার্য করেছে আদালত।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মো. আবুল খায়ের হিরু ও তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজাম।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজের আদালতে সময়ের আবেদন জানান দুদকের আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম। শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করে আদালত।
১৭ মে শেয়ারবাজারে অর্থ লোপাটের মামলাটি করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন। ১৬ জুন তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ‘আসামিরা নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্টগুলোতে অসাধু, অনৈতিক ও অবৈধ উপায়ে ফাটকা ব্যবসার মতো ধারাবাহিক লেনদেন, প্রতারণামূলক সক্রিয় লেনদেন, ফাটকা ও অনুমাননির্ভর লেনদেনে বাজারে কারসাজি করতেন।’
এতে আরও বলা হয়, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারে ধারাবাহিকভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সেই শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করতেন। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকভাবে আর্থিক ক্ষতির শিকার হন এবং চক্রটি ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকারও বেশি আত্মসাৎ করে, যা অস্বাভাবিক মূলধন লাভ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও প্রকৃতপক্ষে ছিল অপরাধলব্ধ অর্থ’।
দুদক বলছে, মো. আবুল খায়ের হিরু শেয়ারবাজার থেকে তোলা অর্থ থেকে ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকা তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় বিভিন্ন খাতে স্থানান্তরের মাধ্যমে ‘মানি লন্ডারিং’ করেন। হিরুর নামে থাকা ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার ‘অস্বাভাবিক, অযৌক্তিক এবং সন্দেহজনক’ লেনদেন হওয়ার কথাও বলা হয়েছে মামলাটিতে।
মামলায় বলা হয়েছে, হিরুর কারসাজি করা প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এবং সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেন। এতে তিনি মার্কেট ম্যানিপুলেশনে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওই কারসাজিকৃত শেয়ারে বিনিয়োগে প্রতারণার মাধ্যমে প্রলুব্ধ করে তাদের ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে অপরাধলব্ধ আয় হিসেবে শেয়ার বাজার থেকে উত্তোলনপূর্বক আত্মসাৎ করেন।
এই প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দরে কারসাজির অভিযোগেই গত সেপ্টেস্বরে সাকিবকে ৫০ লাখ টাকা জারিমানা করেছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সে সময় আবুল খায়ের হিরুকে ২৫ লাখ টাকা, ইশাল কমিউনিকেশন লিমিটেডকে ৭৫ লাখ টাকা, মোনার্ক মার্ট লিমিটেডকে এক লাখ টাকা, আবুল কালাম মাতবরকে ১০ লাখ টাকা, লাভা ইলেক্ট্রোড ইন্ডাস্ট্রিজকে এক লাখ টাকা এবং জাহেদ কামালকেও এক লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি।
এদিকে বুধবারই সাকিব আল হাসানকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলেছিল সংস্থাটি। তবে দেশের বাইরে থাকা এই ক্রিকেটার আসেননি।
দেশের সফলতম ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান গত বছরের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাগুরা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আগস্টে তিনি যখন কানাডায়, সেই সময় আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর তার আর দেশে ফেরা হয়নি।
আগস্টেই সাকিবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয় রাজধানীর আদাবর থানায়। পরে ‘শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, নিষিদ্ধ জুয়ার ব্যবসা ও জুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, স্বর্ণ চোরাচালানে সম্পৃক্ততা, প্রতারণার মাধ্যমে কাঁকড়া ব্যবসায়ীদের অর্থ আত্মসাৎ, ক্রিকেট খেলায় দুর্নীতি ও নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপনের’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
