শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭:৪২, ২৬ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২০:২০, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল। ফাইল ছবি
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (২৬ নভেম্বর) এ রায় প্রকাশিত হয়। এখন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা ও নির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে গত ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণা করেছিল ট্রাইব্যুনাল। আজ ৪৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি ধাপ শেষ হলো।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ রায়ে শেখ হাসিনাকে তিনটি হত্যাকাণ্ড-সম্পর্কিত অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড ও রাষ্ট্রপক্ষের রাজসাক্ষী হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
রায়ে শেখ হাসিনা ও কামালের দেশে থাকা সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল যে পাঁচটি অভিযোগে বিচার চালায় সেগুলো হলো—গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান,হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার দায়, রাজধানীর চানখাঁরপুলে হত্যাকাণ্ড এবং আশুলিয়ায় হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনা। এর মধ্যে শেষ তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রথম দুই অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ট্রাইব্যুনাল বলেছে—জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো ছিল “পূর্বপরিকল্পিত, সুসংগঠিত এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত গণহত্যা।” নেতৃত্বের দায়, ষড়যন্ত্র, উসকানি ও প্রত্যক্ষ নির্দেশ—সব কয়েকটি স্তরেই প্রমাণিত হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে।
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ফলে এখন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। রাষ্ট্রপক্ষও চাইলে আপিল করতে পারবে। আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায় না দেওয়া পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর স্থগিত থাকবে।
ট্রাইব্যুনালের এই রায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেশের বিচার–ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে।
