আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার জিতল সিরিয়ার কিশোরী বানা আল-আবেদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৪৫, ২০ নভেম্বর ২০২৫
স্টকহোমে অনুষ্ঠিত এক অনাড়ম্বর কিন্তু আবেগঘন অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন’স পিস প্রাইজ জিতে নিল ১৬ বছর বয়সী সিরিয়ার কিশোরী বানা আল-আবেদ। শিশু অধিকার, শিক্ষা পুনরুদ্ধার ও যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের জন্য বিশ্বব্যাপী প্ল্যাটফর্ম তৈরি—এই তিন ক্ষেত্রেই তার নিরন্তর কাজকে এ সম্মান জানিয়েছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক কিডসরাইটস ফাউন্ডেশন।
বানা মাত্র সাত বছর বয়সে সিরিয়ার আলেপ্পো নগরীর ভয়াবহ অবরোধ থেকে টুইট করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে তার ছোট্ট কণ্ঠ হয়ে উঠেছিল যুদ্ধের নির্মমতার প্রতীক। ২০১৬ সালে পরিবারসহ তুরkiye পর্যন্ত পৌঁছে নতুন জীবন শুরু করলেও, শিশুদের জন্য লড়াই থামাননি তিনি।
■ যুদ্ধের বিরুদ্ধে নির্ভীক কণ্ঠস্বর
স্টকহোম সিটি হলে পুরস্কার গ্রহণের সময় বানা বলেন
“আমরা নীরব থাকব না। যারা রক্তকে ক্ষমতার মাধ্যম বানিয়েছে, তারা সবাই জবাবদিহির আওতায় আসবে।”
তিনি নাম ধরে সমালোচনা করেন পূর্বতন সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিভিন্ন দেশের যুদ্ধ–নেতাদের।
তার ভাষণে প্রতিফলিত হয় যুদ্ধ ও সহিংসতায় স্বপ্ন–হারা লাখো শিশুর ক্ষোভ, বেদনা ও প্রতিবাদ।
■ শিক্ষা তার প্রধান অগ্রাধিকার
পুরস্কার অনুষ্ঠানের আগে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বানা জানান—“শিশুদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো শিক্ষা। শিক্ষা মানে আশার আলো, উন্নতির সুযোগ।”
তিনি বলেন, যুদ্ধ শিশুদের আগেভাগেই বড় হতে বাধ্য করে। তারা শৈশব হারায়; আর তাই শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের শিশু হিসেবে বাঁচতে দেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
■ সিরিয়ার ধ্বংসস্তূপে ফের দাঁড় করাতে চান স্কুল
নিজে এখনও সিরিয়ায় ফিরে যেতে না পারলেও, একদিন ফিরে গিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্য তার। বর্তমানে সিরিয়ার বহু বিদ্যালয় ফাঁকা; নেই ডেস্ক, বই, শিক্ষাসামগ্রী—শীতের মধ্যে শিশুদের মেঝেতে বসেই ক্লাস করতে হয়।
এ ছাড়া তিনি কাজ করছেন যুদ্ধের সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ৫,০০০ সিরীয় শিশুকে পুনরায় বাবা–মায়ের কাছে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে।
■ বিশ্বমঞ্চে এক নবপ্রজন্মের নেতৃত্ব
গত কয়েক বছরে বানা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন, তুরস্ক ও জর্ডানের শরণার্থী শিবিরে গিয়ে শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, দুইটি বই লিখেছেন এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁসহ বহু রাষ্ট্রনেতার কাছ থেকে বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছেন।
কিডসরাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক ডুলার্ট বলেন—“অসীম প্রতিকূলতার মধ্যেও বানা যে সাহস ও দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা।”
আগের বিজয়ীদের তালিকায় আছেন গ্রেটা থানবার্গ, মালালা ইউসুফজাই—তাদের সারিতে নতুন নাম বানা আল-আবেদ।
