২৭ নভেম্বর থেকেই ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০:৩০, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ০২:৫১, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। ছবি: সংগৃহীত
৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার পেছানোর দাবিতে পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন চললেও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) জানিয়ে দিয়েছে—ঘোষিত সূচি অপরিবর্তিত থাকবে। পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী আগামী ২৭ নভেম্বর শুরু হয়ে লিখিত পরীক্ষা চলবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
সোমবার পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষাকেন্দ্র, আসনবিন্যাস ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন, ঘড়ি, স্মার্টওয়াচ, ইলেকট্রনিক যোগাযোগযন্ত্র, বই, ব্যাগ, মানিব্যাগ, ব্যাংক/ক্রেডিট কার্ড, ক্যালকুলেটর (গাণিতিক যুক্তি ব্যতীত) কিংবা অন্য কোনো নিষিদ্ধ সামগ্রী আনা যাবে না।
প্রবেশপথে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের তল্লাশি শেষে হলে ঢুকতে দেওয়া হবে। পরীক্ষার সময় কারও কাছ থেকে নিষিদ্ধ সামগ্রী পেলে প্রার্থিতা বাতিলের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোন পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে?
গণিত, ফলিত গণিত, পদার্থবিদ্যা, ইলেকট্রনিক্স, হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স, মার্কেটিং, কম্পিউটার সায়েন্স, পরিসংখ্যান ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের পরীক্ষার্থীরা শুধুমাত্র সায়েন্টিফিক নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন।
পরিসংখ্যান (কোড ৯৮১) পরীক্ষার্থীরা হাইপোথিসিস টেস্টিংসহ প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানিক সারণি সঙ্গে আনতে পারবেন।
মুখে বা কানে কোনো আবরণ রাখা যাবে না
হলে প্রবেশের পর পরীক্ষার্থীরা মুখ বা কানের ওপর কোনো আবরণ রাখতে পারবেন না। উপস্থিতি তালিকায় থাকা ছবি ও স্বাক্ষরের সঙ্গে প্রবেশপত্র মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। মিল না থাকলে বহিষ্কার করা হবে। এ কারণে পরীক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে পিএসসি।
ডাবল লিথোকোড ও বারকোডযুক্ত ওএমআর উত্তরপত্র
লিখিত পরীক্ষায় ডাবল লিথোকোডসহ ওএমআর সংযুক্ত উত্তরপত্র ব্যবহার করা হবে। পরীক্ষার্থীদের নাম, বিষয় কোড, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, কেন্দ্র–সংক্রান্ত তথ্য কালো কালির বলপেন দিয়ে পূরণ করতে হবে।
ভুল কোড, কাটাকাটি বা ফ্লুইড ব্যবহার করলে উত্তরপত্র বাতিল হবে। মূল বা অতিরিক্ত উত্তরপত্রে নাম বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখা যাবে না।
বাংলা পরীক্ষায় দুই দিন অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক
বাংলা (০০১ ও ০০২ কোড) পরীক্ষা হবে দুই দিন।
কারিগরি/পেশাগত ক্যাডার: ০০১ কোড (১০০ নম্বর)
সাধারণ ক্যাডার: ০০২ কোড (২০০ নম্বর)
উভয় ক্যাডারের পরীক্ষার্থীদের দুই দিনই পরীক্ষা দিতে হবে
২৭ নভেম্বর—০০১ কোড (৩ ঘণ্টা)
৩০ নভেম্বর—০০২ কোড (৪ ঘণ্টা)
ভুল কোড পূরণ করলে পরীক্ষা বাতিল হবে।
মানসিক দক্ষতার এমসিকিউ ৭ ডিসেম্বর
বিষয় কোড ০০৯–এর পরীক্ষা ৭ ডিসেম্বর দুপুর ১২:৩০–১:৩০ অনুষ্ঠিত হবে। দুই ভাগে বিভক্ত ওএমআর শিট দেওয়া হবে। প্রথম অংশটি পূরণ শেষে সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় অংশে ৫০টি প্রশ্ন থাকবে, যার বৃত্ত পূরণ করতে হবে কেবল কালো বলপেন দিয়ে।
প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
আবেদনের ভিত্তিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা প্রত্যেক ঘণ্টায় অতিরিক্ত ১০ মিনিট পাবেন। পিএসসি-প্রশিক্ষিত শ্রুতিলেখক ছাড়া অন্য কাউকে গ্রহণ করা হবে না।
সব পরীক্ষা কেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরার আওতায় পরীক্ষা নেওয়া হবে। অসদুপায় থেকে বিরত থাকার জন্য পরীক্ষার্থীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আট বিভাগে পরীক্ষা—কিছু বিষয় শুধু ঢাকায়
ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রগুলোতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পদসংশ্লিষ্ট কিছু বিষয় শুধুমাত্র ঢাকায় নেওয়া হবে।
এদিকে পিএসসির রুটিন বাতিল করে পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে আন্দোলন করছেন পরীক্ষার্থীরা। তবে কমিশনের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে সূচি অপরিবর্তিত রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
