ব্রাজিলে অনুমোদন পেল বিশ্বের প্রথম এক ডোজ ডেঙ্গু টিকা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২:৪৫, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ০০:২২, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
ডেঙ্গু ভ্যাকসিন —বুটানটান-ডিভি। গ্রাফিক্স : সমাজকাল
ব্রাজিলে অনুমোদন পেয়েছে বিশ্বের প্রথম এক ডোজের ডেঙ্গু ভ্যাকসিন—বুটানটান-ডিভি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে সাও পাওলো ভিত্তিক বুটানটান ইনস্টিটিউট।
ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ১৬ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীর ওপর পরীক্ষায় দেখা গেছে, গুরুতর ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ। এটি ১২ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের জন্য অনুমোদিত। আগের ভ্যাকসিন টাক-০০৩ দুই ডোজে দেওয়া হতো, যা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যবস্থাপনায় জটিল।
বুটানটান-ডিভি
একক ডোজ হওয়ায় দ্রুত, সহজ এবং ব্যাপক টিকাদান সম্ভব।
বিশ্বজুড়ে ডেঙ্গু সংক্রমণ সম্প্রতি ক্রমবর্ধমান। বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ঝুঁকি বেশি। উষ্ণ তাপমাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তন ও মশার বিস্তার ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একক ডোজ ভ্যাকসিন দ্রুত প্রয়োগের সুবিধা থাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এটি কার্যকর।
বাংলাদেশেও ডেঙ্গু বিশেষ করে বর্ষা ও গ্রীষ্মে বেশি হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহীসহ শহরগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। একক ডোজ ভ্যাকসিন থাকলে শহর ও গ্রাম এলাকায় দ্রুত টিকাদান সম্ভব।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল ও কলেজে টিকাদান আয়োজন সহজ হবে। এটি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কমাতে সাহায্য করবে।
তবে এ টিকার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এটি ১২ বছরের নিচে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য অনুমোদিত নয়।
এছাড়া সঠিক সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য শীতল শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। বাংলাদেশে কিছু অঞ্চলে এই ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
বুটানটান-ডিভি‑এর পরিচালক বলেন, ‘এই অনুমোদন স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।’
বাংলাদেশে বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এই ভ্যাকসিন দেশে অনুমোদিত হলে দ্রুত ও ব্যাপকভাবে প্রয়োগ সম্ভব হবে। তবে মশা নিয়ন্ত্রণ, রোগ শনাক্তকরণ এবং জনসচেতনতা জোরদার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রাজিলে একক‑ডোজ ভ্যাকসিন অনুমোদন স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়।
বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে এটি সম্ভাব্য রক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সফল প্রয়োগে পরিকল্পনা, যথাযথ স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং সচেতনতা অপরিহার্য।
