বিএইচআরএফ-ওজিএসবির মতবিনিময় সভা
এখনও মাতৃমৃত্যু প্রতি লাখে ১৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২:০০, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
ছবি: সংগৃহীত
দেশে গত এক দশকে মাতৃমৃত্যুর হার কমলেও গতি আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের তথ্য অনুযায়ি, দেশে ১৯৯০ সাল শিশু জন্ম দিতে গিয়ে প্রতি লাখে ৫৭৪ জন মায়ের মৃত্যু হতো। এরপর পরের তিন দশকে ২৫২, ১২৮ ও ২৯ করে কমেছে। বর্তমানে এ হার ১৩৬। অথচ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখে ৭০-এ নামিয়ে আনতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের সম্মলন কক্ষে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সদস্যদের সঙ্গে অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সভায় বলা হয়, বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ পাঁচটি ও মাতৃমৃত্যুর হার স্থিমিত হওয়া পেছনে কারণ চারটি। মৃত্যুর কারণগুলো হলো- প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ, গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বাধাগ্রস্ত প্রসব ও সংক্রমণ। এর বাইরে বিভিন্ন রোগ। যেমন-রক্তস্বল্পতা, হূদরোগ ডায়াবেটিস, থাইরয়েড রোগ।
মাতৃমৃত্যুর হার স্থিমিত হওয়া পেছনে কারণগুলো হলো- জনসংখ্যায় ফার্টিলিটি রেট বেড়ে যাওয়া, বাড়িতে প্রসবের প্রবণতা, নিয়ম অনুযায়ী চারবার বা তার বেশি অ্যান্টিনেটাল কেয়ার (এএনসি) না নেওয়া।
সভায় মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওজিএসবি’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম।
আলোচনায় অংশ নেন ওজিএসবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফারহানা দেওয়ান ও বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সভাপতি রাশেদ রাব্বি।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৯ সালে শহরে অঞ্চলে মাতৃমৃত্যু হার ছিল ১২৩ জন, বর্তমানে কমে হয়েছে ৫৬ জন। এই সময়ে গ্রাম অঞ্চলে ১৯১ থেকে কমে হয়েছে ১৫৭ জন। মাতৃমৃত্যুর ৫৪ শতাংশ হচ্ছে বাড়িতে। এদের সবাই প্রসব পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মারা যাচ্ছে। প্রশিক্ষিত সেবাদাতার কাছ থেকে অন্তত চারবার প্রসবপূর্ব সেবা নেন না ৫৯ শতাংশ মা।
অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম বলেন, মায়েরা মূলত প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণে মারা যান, এবং বর্তমান হারে চললে এসডিজি অর্জন কঠিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনযায়ি অন্তত আটবার প্রসবপূর্ব সেবা নেওয়া কথা কিন্তু এ হার খুবেই সীমিত।
ওজিএসবির এই সাবেক সভাপতি মাতৃমৃত্যু কমাতে ভুমিকার রাখবে এমন উদ্ভাবন বিষয়ে জানান।
তিনি বলেন, সহজলভ্য স্বচ্ছ/স্বল্পস্বচ্ছ পলিথিনের ব্যাগের মাধ্যমে কৌশলে ত্রিকোণ আকৃতির দাগাঙ্কিত থলি স্বাভাবিক প্রসবের সময় ব্যবহার করে প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব পরিমাপ করে রক্তক্ষরণের রোগ নির্ণয় ও চিকিত্সার মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু সফলভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এটি নার্স ও মিডওয়াইফরা হাসপাতালে তৈরি করতে পারেন, যার মূল্য মাত্র ৫ টাকা; প্রকল্পে এটির সফল ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, ডিজিএইচএস, ডিজিএফপি, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ অবস্টেট্রিক্স গাইনাকোলোজি (ফিগো) এবং ওজিএসবি একটি প্রকল্প ফরিদপুরের চারটি সরকারি হাসপাতালে ও ঢাকার দুটি অলাভজনক হাসপাতালে পরিচালিত হয়েছে ২০২৩-২০২৫ পর্যন্ত।
সভায় অধ্যাপক ডা. ফারহানা দেওয়ান জানান, প্রসব পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, এই সময়েই ৫৫% মাতৃমৃত্যু ঘটে। তাই সন্তান জন্মদানের পরও হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন থাকলেও অনেক মা ৮ ঘণ্টাও হাসপাতালে থাকতে চান না।
