শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

| ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

জাতীয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সার্ভিলেন্স

আইসিইউতে ৪১% জীবানুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭:৫৭, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

আইসিইউতে ৪১% জীবানুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না

জাতীয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) সার্ভিলেন্স সেমিনার। ছবি: সংগৃহীত

দেশের হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ওষুধ প্রতিরোধী জীবানু ৮৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৪১ শতাংশ জীবানুর ক্ষেত্রে কোন অ্যান্টিবায়োটিকই কাজ করছে না।

জাতীয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) সার্ভিলেন্স-২০২৪ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সার্ভিলেন্সে বলা হয়েছে, আইসিইউ থেকে সংগৃহীত নমুনার ৪১ শতাংশ সন্দেহভাজন প্যান-ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট (পিডিআর), অর্থাৎ পরীক্ষিত কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই কাজ করেনি। সামগ্রিকভাবে হাসপাতালের নমুনায় বহু-ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুর হার ৪৬ শতাংশ, আর আইসিইউতে তা ৮৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে গবেষণা ফলাফল তুলে ধরেন সংস্থাটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. জাকির হোসেন হাবিব।

তিনি বলেন, গুরুতর সংক্রমণে দায়ী প্রধান ব্যাকটেরিয়ার বড় অংশ এখন এমন প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করেছে যে, চিকিৎসায় সর্বাধুনিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলেও রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

এই বিশেষজ্ঞা জানান, জাতীয় এএমআর সার্ভিলেন্স ২০১৬ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। সর্বশেষ চক্রে (জুলাই ২০২৪–জুন ২০২৫) কেস-ভিত্তিক ও ল্যাব-ভিত্তিক নজরদারিতে সংগৃহীত ৯৬ হাজার ৪৭৭ রোগীর ক্লিনিক্যাল নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সব নমুনা মিলিয়ে গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি—৭৭ শতাংশ; গ্রাম পজিটিভ পাওয়া গেছে ২২ শতাংশ। শনাক্ত জীবাণুর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ই-কোলি, ৩৫ শতাংশ। এরপর ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া, যা শতকরা বিবেচনায় ১৯.২ শতাংশ।

গবেষণায় ১২৩টি ড্রাগ–বাগ কম্বিনেশনের সংবেদনশীলতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় ৩৮টির সংবেদনশীলতা বেড়েছে, ৭৯টির কমেছে এবং ৬টির কোনো পরিবর্তন হয়নি। 

গবেষণায় আরও বলা হয়, আইসিইউর পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক। সেখানে পাঁচটি প্রধান প্যাথোজেনের জন্য ৭১টি অ্যান্টিবায়োটিক পরীক্ষায় মাত্র পাঁচটিতে সংবেদনশীলতা ৮০ শতাংশের বেশি পাওয়া গেছে, আর মাত্র একটি কম্বিনেশনে তা ৬০–৮০ শতাংশ। বাকি সব ক্ষেত্রেই সংবেদনশীলতা ৬০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে, যা গুরুতর রোগীর চিকিৎসাকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ক্রিটিক্যাল প্রাইঅরিটি’ তালিকায় থাকা জীবাণুগুলোর প্রতিরোধক্ষমতাও দ্রুত বাড়ছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সময়কালে ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়ার সেফট্রিয়াক্সোন রেজিস্ট্যান্স ৪০.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫২.২ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে মেরোপেনেম রেজিস্ট্যান্স ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৯.২ শতাংশ। অ্যাসিনেটোব্যাক্টরের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ। মেরোপেনেমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা ৪৬.৭ শতাংশ থেকে ৭১ শতাংশে উঠে গেছে। প্যান-ড্রাগ–রেজিস্ট্যান্ট নমুনার মধ্যেও সবচেয়ে বেশি, ২৭ শতাংশ, পাওয়া গেছে অ্যাসিনেটোব্যাক্টরে।

স্বাস্থ্য সূচকে (এসডিজি লক্ষ্য ৩.ডি.২) রক্তের নমুনায় এমআরএসএ পাওয়া গেছে ৫৩.৯ শতাংশ এবং ইএসবিএল–উৎপাদক ই-কোলি পাওয়া গেছে ৮৪.৩ শতাংশ— যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অত্যন্ত উচ্চ। 

কেস-ভিত্তিক নজরদারিতে সবচেয়ে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ছিল সেফট্রিয়াক্সোন (৩৩ শতাংশ) ও মেরোপেনেম (১৬ শতাংশ)। 
তবে সবচেয়ে উদ্বেগের তথ্য হলো, হাসপাতালে ‘ওয়াচ’ গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের হার গত বছরের ৭৭ শতাংশ থেকে এবার ১০৯ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে— যা অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নমুনায় ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। ক্যাম্প এলাকার মলের নমুনায় সর্বোচ্চ পাওয়া গেছে ভিব্রিও কলেরা, যার টেট্রাসাইক্লিন সংবেদনশীলতা ১০০ শতাংশ এবং অ্যাজিথ্রোমাইসিন ৯৭ শতাংশ। ডায়রিয়া চিকিৎসায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওষুধও এই অ্যাজিথ্রোমাইসিন।

সব মিলিয়ে সার্ভিলেন্সের ফলাফল বলছে, বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক-রেজিস্ট্যান্ট জীবাণুর হার দ্রুত বাড়ছে, বিশেষত আইসিইউ-কেন্দ্রিক সংক্রমণে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন গাইডলাইন অনুসরণ, ল্যাব সক্ষমতা বাড়ানো এবং অ্যান্টিবায়োটিক স্টুয়ার্ডশিপ জোরদার না হলে পরিস্থিতি দ্রুতই আরও অবনতি ঘটাবে। অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারালে সাধারণ সংক্রমণও জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এখনই সতর্কতা জরুরি।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. শাহ মনির হোসেন, পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) প্রফেসর ডা. আফরিনা মাহমুদ, হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালকনডা. আবু হুসাইন মো. মইনুল, প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ও আইটিএইচসি'র পরিচালক ডা. সৈয়দ কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ:

তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে সরকারের কোনো বাধা নেই: প্রেস সচিব
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাল থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু
ব্যবসায়ীদের কমফোর্ট জোন দিতে ব্যর্থ রাজনীতি: জামায়াত আমির
অবস্থার উন্নতি হলে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি
ই-রিটার্নে রেকর্ড: ২০ লাখের বেশি রিটার্ন দাখিল
খেলাপি ঋণ সংকট কাটাতে ১০ বছর লাগবে: গভর্নর
ফ্লাই করার মতো অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া—এভারকেয়ার থেকে জানালেন মান্না
এভারকেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ বিএনপির
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
খালেদা জিয়াকে সিঙ্গাপুর বা ইউরোপে নিতে এয়ারঅ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত
খালেদা জিয়াকে নিয়ে মুশফিকুলের আবেগঘণ স্মৃতিচারণ ‘আমার ব্যক্তিগত ঋণ’
‘লুটপাটকারীদের শাস্তি দিন, কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বেকারত্ব বাড়াবেন না’ — মির্জা ফখরুল
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যা বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থায় রাষ্ট্রপতির গভীর উদ্বেগ
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় উপদেষ্টার পরিষদের সভায় দোয়া
তফসিল কবে জানালেন সিইসি নাসির উদ্দিন
দুটি বিতর্কিত অভিযানের পর র‍্যাব-১৫–এ ‘গণবদলি’
বেগম জিয়া গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অনন্য অনুপ্রেরণা: নাহিদ ইসলামের বিবৃতি
দেশে ফেরার বিষয়ে কথা বললেন তারেক রহমান
ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে