বায়ুদূষণে ঢাকার অবনতি, বের হলেই ব্যবহার করুন মাস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯:৪১, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণ ও শিল্পকারখানার সম্প্রসারণের কারণে বিশ্বের বড় শহরগুলোতে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ মেগাসিটি ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণের মারাত্মক চাপে রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে শহরটির বাতাসে আবারও দ্রুত বাড়ছে দূষণের মাত্রা। যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানা, নির্মাণকাজ, ইটভাটা—সব মিলিয়ে রাজধানীর বাতাস এখন বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার পর সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার–এর লাইভ সূচকে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ১২৫টি শহরের মধ্যে ঢাকা দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ২৬৪, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত। এমন অবস্থায় জানালা বন্ধ রাখা এবং বাড়ির বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছে আইকিউএয়ার।
এ সময় সূচকে সবার ওপরে রয়েছে মিশরের কায়রো। শহরটির বাতাসের মানের স্কোর ৪৮৬। বাতাসের এই মান নাগরিকদের জন্য ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২৫৩ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকার শীর্ষ তিন নম্বরে রয়েছে ভারতের দিল্লি শহর। দেশটির আরেকটি শহর কলকাতা ২২ স্কোর নিয়ে তালিকার পাঁচ নম্বরে রয়েছে।
শীর্ষ ৪ নম্বরে রয়েছে উজবেকিস্তানের শহর তাশখন্দ, স্কোর ২৫২। ১৯৯ স্কোর নিয়ে ছয় নম্বরে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। দেশটির আরেকটি শহর করাচি ১৭৫ স্কোর নিয়ে রয়েছে নবম তালিকায়। এই মানের বাতাসও নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এছাড়া চীনের চেংডু ও ভিয়েতনামের হেনোই শহরের বাতাসও ‘অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় রয়েছে। শহর দুটির স্কোর ১৮১ ও ১৮০।
আইকিউএয়ার বাতাসের মান নিয়ে লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক প্রকাশ করে। যা একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয়ার পাশাপাশি সতর্ক করে।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
