ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে উদ্বেগ: অ্যাসিড বৃষ্টি হবে কি?
সমাজকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭:১৩, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
ইথিওপিয়ার হায়লি গুব্বি আগ্নেয়গিরি প্রায় ১২ হাজার বছর পর ফের অগ্ন্যুৎপাত করেছে। এই বিস্ফোরণে বিশাল ছাই–মেঘ ও সালফার ডাই–অক্সাইড (SO₂) নির্গত হয়ে নভেম্বরে ২৩ ও ২৪ তারিখে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমানসহ কয়েকটি দেশে ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব এবং বায়ুদূষণ সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করতে হয়েছে।

সৌর–বিজ্ঞানী শাওকাত ওদেহ স্যাটেলাইট চিত্রে দেখিয়েছেন—SO₂ গ্যাস দ্রুত লোহিত সাগর পেরিয়ে আরব উপদ্বীপে পৌঁছেছে। অন্যদিকে এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল সোসাইটির ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, ওমান ও ইয়েমেনের কিছু অংশে হালকা অ্যাসিড বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ওমান সরকার পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশটির বায়ুমানে কোনো নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি, এবং জনস্বাস্থ্যে ঝুঁকি বাড়েনি।
অ্যাসিড বৃষ্টি আসলে কী?
“অ্যাসিড রেইন” বলতে শুধু বৃষ্টি নয়—বরফ, কুয়াশা, শিশির কিংবা ধুলোকণাও এর আওতায় পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংস্থা (ইপিএ) অনুযায়ী এর উৎপত্তি কয়েকটি ধাপে হয়—
১. দূষিত গ্যাস নির্গমন
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, শিল্পকারখানা কিংবা জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সালফার ডাই–অক্সাইড (SO₂) ও নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) বায়ুমণ্ডলে ছাড়ে।
২. বাতাসে দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণ
এই গ্যাসগুলো বাতাসের সঙ্গে ভেসে শত–সহস্র কিলোমিটার দূরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
৩. রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া
বায়ুর আর্দ্রতা, অক্সিজেন ও অন্যান্য কণার সঙ্গে মিশে সালফিউরিক ও নাইট্রিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়।
৪. বৃষ্টির সঙ্গে ভূমিতে পতন
এরপর বৃষ্টি, তুষার, কুয়াশা বা ধুলোকণার মাধ্যমে অ্যাসিড জাতীয় পদার্থ মাটিতে কিংবা পানিতে পড়ে—এটাই অ্যাসিড বৃষ্টি।
অ্যাসিড বৃষ্টির সম্ভাব্য ক্ষতি
১. পরিবেশের ওপর প্রভাব
অ্যাসিড বৃষ্টি নদী–হ্রদে পড়ে পানির pH কমিয়ে দেয়, ফলে মাছ, জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পাহাড়ি বা উঁচু এলাকার গাছে অ্যাসিডিক কুয়াশা লেগে পাতার পুষ্টি কমে যায়, ফলে আলো গ্রহণক্ষমতা কমে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।
২. মানবস্বাস্থ্যে সম্ভাব্য ঝুঁকি
বাতাসে থাকা অ্যাসিডিক কণা ফুসফুসে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট, গলা–নাক জ্বালা, এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা হ্রাস ঘটাতে পারে।
অ্যাজমা বা শ্বাসতন্ত্রে সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
৩. অবকাঠামোর ক্ষতি
দীর্ঘমেয়াদে অ্যাসিড বৃষ্টি ভবন, গাড়ি ও ধাতব কাঠামো ক্ষয় করে, বাড়িয়ে দেয় রক্ষণাবেক্ষণের খরচ।
মধ্যপ্রাচ্যে ঝুঁকি কতটা?
বিশেষজ্ঞদের মতে—হায়লি গুব্বি আগ্নেয়গিরির SO₂ মেঘ আরব উপদ্বীপের উপর দিয়ে গেলেও বৃষ্টি না হলে বড় ঝুঁকি নেই। আর যেহেতু ওমান ও ইয়েমেনের কিছু এলাকায় সামান্য আর্দ্রতা থাকতে পারে, তাই হালকা অ্যাসিড বৃষ্টি হওয়ার একটি সীমিত সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে স্থানীয় সরকারি সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে—এখনো পর্যন্ত বায়ুদূষণ বা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়েনি।
