ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’: তেমন প্রভাব পড়বে না বাংলাদেশের উপকূলে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১:৪৮, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’:: ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন শ্রীলংকা উপকূলের অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’র প্রভাব বাংলাদেশের উপকূলে সেভাবে পড়বে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে ঘূর্ণিঝড়টির সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছের এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল। এ জন্য রাতে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
অধিদপ্তর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে সতর্কতা হিসেবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে যেতে মানা করেছে।
এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বাংলাদেশের উপকূলে সেভাবে পড়বে না বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবওহাওয়াবিদ মো. শাহিনুল ইসলাম।
তিনি রাত সাড়ে ১১টার দিকে বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন শ্রীলংকা উপকূলের ওই লঘুচাপ একদিনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেও সেটির প্রভাব বাংলাদেশের উপকূলে দেখা যাবে না।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে তিনি বলেন, “এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের কোথাও বৃষ্টিপাত হওয়ারও সম্ভাবনা নেই।“
একদিনেই লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার পর আবওহাওয়া অধিদপ্তর রাতে বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, শ্রীলঙ্কা উপকূলে অবস্থানরত ‘ডিটওয়াহ’ উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (৭.৫°উত্তর অক্ষাংশ ও ৮১.৬° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে।
ঘূর্ণিঝড়টি সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৯১০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৯৩০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৮৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে পূর্ভাবাস দিয়ে আবওহাওয়ার এ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছের এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। এটির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৮৮কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) বলছে, এই নামটি ইয়েমেন প্রস্তাব করেছে। ‘ডিটওয়াহ’ বলতে বোঝানো হচ্ছে ইয়েমেনের সোকোত্রা দ্বীপের বিখ্যাত ডিটওয়া লেগুন, যা অনন্য উপকূলীয় প্রতিবেশের জন্য পরিচিত।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ও জাতিসংঘের ট্র্রপিক্যাল সাইক্লোনস প্যানেলের সদস্য দেশগুলোর দেওয়া নামের তালিকা থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণ করা হয়। সেই তালিকা থেকেই ‘ডিটওয়াহ’ নেওয়া হয়েছে, যা ইয়েমেনের উপকূলীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, এটি প্রায় একই সময়ে তৈরি হয়েছে যখন ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ার বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর–পূর্ব অংশ ও মালাক্কা প্রণালীর দিকে সরে যায়।
