পরিবেশ সংকটে আঞ্চলিক ঐক্যের আহ্বান রিজওয়ানা হাসানের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬:১৪, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও নরবু ওয়াংচুক। ছবি: পিআইডি।
দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক ঐক্য ও সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, বায়ুদূষণ, নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত–অতিক্রমকারী প্লাস্টিক বর্জ্য এবং সুন্দরবনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশ ব্যবস্থার সুরক্ষা—এসব সংকট কোনো জাতীয় সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। তাই আস্থা, সহযোগিতা এবং ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশকে যৌথ পথ খুঁজে নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে দক্ষিণ এশীয় পরিবেশ কর্মসূচির (এসএসিইপি) মহাপরিচালক নরবু ওয়াংচুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় উভয় পক্ষ জলবায়ু অভিযোজন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সীমান্তবর্তী পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বৈঠকে নরবু ওয়াংচুক জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বায়ুগুণমান উন্নয়ন, জলবায়ু অভিযোজন, এবং সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ–এসব খাতে এসএসিইপি সদস্যদেশগুলোতে একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তিনি বাংলাদেশের পরিবেশ নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, যৌথ প্রকল্প, সক্ষমতা বৃদ্ধি, এবং বহু-দাতা তহবিল ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও সহায়তা দিতে সংস্থাটি প্রস্তুত।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জলবায়ু অভিযোজন, বায়ুগুণমান ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও এসএসিইপি -এর যৌথ কর্মসূচিকে আরও সুগভীর ও কার্যকর করতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন,“রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সময়েও পরিবেশকে নীতি অগ্রাধিকারের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে।”
এসএসিইপি মহাপরিচালক উপদেষ্টাকে সংস্থাটির প্রশাসনিক কাঠামো, আসন্ন গভর্নিং কাউন্সিলের কার্যক্রম এবং বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক বায়ুগুণমান কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে আরও সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদানের অনুরোধ জানান।
উপদেষ্টা এসএসিইপি এর ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সমন্বিত পরিবেশ সমাধান অগ্রসর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হলে জলবায়ু–সংকটাপন্ন দেশগুলোর মানুষ এর বাস্তব সুফল পাবে।
