বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ শহরের তালিকায় খুলনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯:৫৯, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি ও পাকিস্তানের করাচি–লাহোর প্রায় এক মাস ধরে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরীর তালিকায় শীর্ষ অবস্থান দখল করে আছে। বিশেষ করে নয়াদিল্লিতে বায়ুদূষণ এত ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে প্রশাসন কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি ঘটিয়ে দূষণ কমানোর উদ্যোগ নেয়।
সেই নয়াদিল্লিই আজ বুধবার সকালেও (সোয়া ৮টা) বিশ্বের ১২৭টি নগরের মধ্যে সবচেয়ে দূষিত শহর, বায়ুমান (একিউআই) ২৮৪। কিন্তু উদ্বেগজনক হলো—বাংলাদেশের খুলনা আজ এই দূষণের মাত্রার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। খুলনার একিউআই রেকর্ড হয়েছে ২৭৭, যা ঢাকার দূষণের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
সকালে ঢাকার বায়ুমান ছিল ২৩১, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণিতে পড়ে।
তথ্যগুলো দিয়েছে বায়ু–মান পর্যবেক্ষক সংস্থা আইকিউএয়ার, যারা বিশ্বব্যাপী তাৎক্ষণিক বায়ুমান সূচক প্রকাশ করে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, সম্ভবত স্থানীয় কিছু কারণেই খুলনার দূষণ পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এর কারণ হতে পারে জৈব জ্বালানী সেখানে অতিরিক্তি মাত্রায় পোড়ানো হচ্ছে। জৈব জ্বালানি যেমন খড়কুটো পোড়ানো বা ধুলাবালু ব্যাপকভাবে ওড়ার কারণে দূষণে বেশি হতে পারে। এ ছাড়া অনুকূল আবহাওয়াগত অবস্থার কারণেও এ পরিস্থিতি হতে পারে।
অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ‘বায়ুদূষণ একেবারে দেশজুড়ে ছড়িয়ে গেছে। এটা সেই বাস্তবতাকে আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। আসলে তুলে ধরছে প্রতিনিয়ত, কিন্তু আমরা এর দিকে নজর দিই না।’
নগরীর যে সাত স্থানে দূষণ বেশি
আজ ঢাকা নগরীর যে সাত স্থানের বায়ু আজ খুব অস্বাস্থ্যকর, সেগুলো হলো ইস্টার্ন হাউজিং (২৫৬), দক্ষিণ পল্লবী (২৫৪), বে’জ এজ ওয়াটার (২৩৪) কল্যাণপুর (২২৯), বেচারাম দেউড়ী (২২৬), গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (২১৩) ও গোড়ান (২০২)।
এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষের দিকে থাকছে। ঢাকার বায়ুমান খুব অস্বাস্থ্যকর দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রতিদিন।নগরবাসীর জন্য সতর্কতা।
বায়ুদূষণ সব মানুষের জন্য সমান ক্ষতিকর। ঢাকার বায়ুদূষণের মূল উপাদান বাতাসে ভেসে বেড়ানো অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫। এই দূষণের উৎস হলো ধুলাবালু, যানবাহন বা কলকারখানার দূষিত ধোঁয়া, বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়া ইত্যাদি। মানুষের নিশ্বাসের সঙ্গে এসব ফুসফুসে প্রবেশ করে। শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমাসহ নানা জটিল রোগ হতে পারে এই দূষণের কারণে।
আইকিউএয়ারের বায়ুদূষণের বার্তায় নগরবাসীর জন্য বেশ কিছু সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো বাইরে বেরোলে অবশ্যই সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। খোলা স্থানে ব্যায়াম করা যথাসম্ভব কমাতে হবে। ঘরের জানালা বন্ধ রাখতে হবে।
