দিল্লির বায়ুতে নতুন ঝুঁকি কতটা?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫:০২, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
ইথিওপিয়ার হায়লি গুব্বি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবার প্রভাব ফেলছে ভারতের আকাশে। প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে ঘটলেও, সেই আগ্নেয় ছাই ও সালফার ডাই অক্সাইডের মেঘ দ্রুত সরণ করে পৌঁছে গেছে ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে—বিশেষত দিল্লি ও হরিয়ানার আকাশে।
ঘণ্টায় ১৩০–১৪০ কিলোমিটার গতিবেগে এই ‘বিষাক্ত মেঘ’ প্রবেশ করায় নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দিল্লির বায়ুদূষণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্ক বাড়লেও বাস্তবে তেমন বড় ক্ষতির সম্ভাবনা কম। কারণ—
ছাইয়ের মেঘটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৫ হাজার ফুট ওপরে অবস্থান করছে
সরাসরি সাধারণ মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের স্তরে এর প্রভাব পড়বে না
সামান্য তাপমাত্রা বৃদ্ধি ছাড়া বায়ুর গুণমান সূচকে (একিউআই) তেমন বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ
ইন্ডিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর জেনারেল এম. মহাপাত্র বলেন—“ছাইয়ের মেঘটি বায়ুর উচ্চস্তরে থাকায় সরাসরি একিউআইI-তে গভীর প্রভাব ফেলবে না। তবে মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার মতো রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।”
তবে ছাইয়ের মধ্যে থাকা সূক্ষ্ম কাচ ও পাথরের কণা এবং সালফার ডাই অক্সাইডের উপস্থিতি ভবিষ্যৎ ঝুঁকির আশঙ্কা বাড়ায়।
ইতিমধ্যে শীত শুরুর আগেই ভারতের রাজধানীর বায়ুদূষণ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে—একিআই ছুঁয়েছে ৩৫০-এর ওপরে।
‘বিষবায়ু’ মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক বসেছে। পিএমও-এর নির্দেশ—“যত দ্রুত সম্ভব বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে হবে”।
বিমান চলাচলে সবচেয়ে বড় সতর্কতা
আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হলো বিমান চলাচল। ছাইয়ের কণা সরাসরি—
ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে
জ্বালানি পোড়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারে
ককপিটের কাঁচে ক্ষয় সৃষ্টি করতে পারে
এ কারণে ডিজিসিএ ভারতের সমস্ত এয়ারলাইন্সকে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে—
ছাই-প্রভাবিত মেঘের মধ্য দিয়ে বা কাছাকাছি দিয়ে উড্ডয়ন নিষিদ্ধ
রুট পরিবর্তনের নির্দেশ
অতিরিক্ত জ্বালানি গ্রহণ
ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক শব্দ বা গন্ধ পেলেই তাৎক্ষণিক রিপোর্ট
ইতোমধ্যে কেরলের কন্নুর থেকে সৌদি আরবের আবু ধাবি যাচ্ছিল একটি বিমান—ছাইয়ের মেঘ ভারতের দিকে আসার খবর পাওয়ার পর অভিমুখ পরিবর্তন করে আমেদাবাদে ফিরে আসে।
এছাড়া ভারত থেকে প্রতিবেশী এশিয়ান দেশসমূহে যাওয়া কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও রুট বদল করেছে।
ভারতের জন্য ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কতটা?
বর্তমানে সরাসরি বড় বিপদের সম্ভাবনা না থাকলেও আবহাওয়া বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে। বিশেষত—উচ্চস্তরের পরিব্যাপ্ত ছাই, বাতাসের গতির পরিবর্তন, সালফার ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব ও ফ্লাইট পথের সুরক্ষা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষণে জর্জরিত দিল্লিবাসীর জন্য নতুন ছাই-ঝুঁকি অতটা বিপজ্জনক না হলেও শীতকালে একিউআই আরও খারাপ হতে পারে—এমন সতর্কতা অজানাতে রাখা যাচ্ছে না।
