বড় ছেলের ‘লাহোর ১৯৪৭’ ই শেষ দেখা ছবি ধর্মেন্দ্রের
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:২৮, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
ধর্মেন্দ্র মৃত্যুর আগে শেষবার বড় ছেলে সানি দেওলের অভিনীত বহুচর্চিত ছবি ‘লাহোর ১৯৪৭’ দেখেছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
বলিউডের ‘হ্যান্ডসম হিরো’ থেকে কালজয়ী আইকন—ধর্মেন্দ্র বহু দশক ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রকে উপহার দিয়েছেন অগণিত স্মরণীয় চরিত্র। ২৪ নভেম্বর ৮৯ বছর বয়সে তার প্রয়াণে যখন শোকাচ্ছন্ন পুরো ইন্ডাস্ট্রি, তখন সামনে এল এক গভীর আবেগমথিত তথ্য। মৃত্যুর আগে শেষবার তিনি যে সিনেমাটি দেখেছিলেন, সেটি আর কেউ নন—নিজের বড় ছেলে সানি দেওলের অভিনীত বহুচর্চিত ছবি ‘লাহোর ১৯৪৭’।
এই অজানা তথ্যটি প্রকাশ করলেন ছবিটির প্রযোজক আমির খান। গোয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৫৬তম আসরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ধর্মেন্দ্র স্মরণে বক্তব্য দিতে গিয়ে আমির জানান, “ধর্মেন্দ্রজি ‘লাহোর ১৯৪৭’-এর চিত্রনাট্য অসম্ভব ভালোবাসতেন। ছবিটি এখনও মুক্তি পায়নি—কিন্তু তাকে দেখাতে পেরেছি। এটাকে আমি আশীর্বাদ মনে করি।”
রাজকুমার সন্তোষী পরিচালিত ও আমির প্রযোজিত ‘লাহোর ১৯৪৭’ তৈরি হয়েছে আসগর ওয়াজাহতের কালজয়ী নাটক ‘যিস লাহোর নহি দেখা, ও জামাই নি’ অবলম্বনে। দেশভাগের তীব্র মানবিক সংকট, লক্ষ্ণৌ থেকে লাহোরে মুসলিম পরিবারের যাত্রা এবং এক হাভেলিকে ঘিরে আবর্তিত টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে ছবিটি একটি গভীর মানবিক কাহিনি।
আমিরের ভাষ্যে, “ওকে ছবি দেখাতে পারাটা আমার কাছে গর্বের। এটা ধর্মেন্দ্রজির অত্যন্ত প্রিয় গল্প ছিল।”
চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চেই আমির খান জানান, ধর্মেন্দ্রর শেষ প্রার্থনাসভায় থাকা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
“আজ তার প্রেয়ার মিটিং। দুর্ভাগ্যবশত আমি মুম্বইয়ে নেই। যেতে পারছি না… এটা আমাকে ব্যথিত করছে।”গত বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বলিউড তারকারা উপস্থিত থাকলেও আমির ছিলেন অনুপস্থিত—সেই কারণও এবার স্পষ্ট করলেন তিনি।
প্রয়াত অভিনেতার সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথাও জানান তিনি।“গত এক বছরে সাত-আটবার ওর সঙ্গে লম্বা সময় কাটিয়েছি। ওর সঙ্গে বসে থাকলেই এক অদ্ভুত শান্তি পেতাম।”
ছেলে আজাদকেও নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি ধর্মেন্দ্রর কাছে। মজার বিষয় হলো, আজাদ ধর্মেন্দ্রর বেশি ছবি দেখেনি, তবু কয়েক ঘণ্টা একত্রে কাটিয়ে বুঝেছিল—ধর্মেন্দ্র শুধুই তারকার নাম নয়, তিনি অসাধারণ একজন মানুষ।
‘লাহোর ১৯৪৭’-এ সানি দেওল ও প্রীতি জিন্টার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন শাবানা আজমি, আলি ফজল ও করণ দেওল। ছবিটি এখনও মুক্তির অপেক্ষায়। কিন্তু ধর্মেন্দ্রর জন্য এটি হয়ে রইল তার দেখা শেষ সিনেমা—যা বহু বছর ধরে তার হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে ছিল।
একদিকে প্রযোজকের কাছে এটি আশীর্বাদ, অন্যদিকে ভক্তদের জন্য দেওল পরিবারের এক নিঃশব্দ ও আবেগঘন অধ্যায়—যেখানে বাবার শেষ দর্শন জুড়ে আছে ছেলের অভিনয় করা প্রিয় গল্পের চলচ্চিত্র।
