ডাল-ভাত-বেগুনভাজা থেকে তারকা – শৈশবের জন্মদিনের স্মৃতি চারণ করলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:১৫, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
টেলিভিশন থেকে রাজনীতি—দশকের পর দশক দর্শকের মন জয় করা অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় আজ নিজের জন্মদিনে ফিরে গেলেন শৈশবের সেই সহজ-সরল দিনে। যেখানে আড়ম্বর ছিল না, ছিল না কেক বা ঝলমলে সাজসজ্জা। ছিল কেবল মায়ের রান্না করা ডাল-ভাত-বেগুনভাজা আর একটুখানি পায়েস—যা আজও তাঁর মনে সবচেয়ে নরম স্মৃতি হয়ে রয়ে গেছে।
রূপা বলেন, “সারা বছর ডাল, ভাত, বেগুনভাজা। কিন্তু জন্মদিনে আমার পাতে থাকত ডিম—ডিমসেদ্ধ, আলুসেদ্ধ আর ভাত। সেটাই ছিল আমার জন্মদিনের স্পেশ্যাল।”
পাশের বাড়ির ছোট্ট মেয়ে বনির জন্য মা অল্প দুধে রাঁধতেন এক বাটি পায়েস। দুই-চার জন মিলে সেই পায়েসের এক চামচ ‘প্রসাদ’ পেত। সেদিন নতুন পোশাকের স্বপ্নও ছিল কল্পনার মতোই দূরের।
বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রূপার জন্মদিনের চেহারাও বদলেছে। জেঠুর চেষ্টা, যৌথ পরিবারের হুল্লোড়—যে বছর আয়োজন হয়েছে, আনন্দ ছিল টইটম্বুর।
অভিনয়ে নামডাক বাড়লেও বন্ধুবৃত্ত তেমন বড় হয়নি। তবু সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্যাপন চলেছে, ছিল মায়ের পায়েস আর ডিমের পদ।
নতুন বাড়ি, ব্যস্ত শুটিং… খরচের কারণে কখনও জন্মদিনের পার্টি করতে পারেননি। তবু বন্ধুরা হাজির হয়েছেন—কুণাল মিত্র কেক নিয়ে, অভিজিৎ দাশগুপ্ত অন্য কিছু নিয়ে। আড্ডা জমে উঠেছে সেই মতোই।
রূপার আবেগভরা স্বীকারোক্তি—“আমার শক্তি আমার ছেলে। জন্মদিন কখনও মিস করে না। যখন-তখন চলে আসে আমার কাছে। আজও আসবেই।”
বোন সোনার সঙ্গে আগাম উদ্যাপনও সেরে ফেলেছেন। দাদার বেছে দেওয়া একটি দিনে সবাই মিলিত হয়েছিলেন—পূর্ব-জন্মদিনের আনন্দে ভরে উঠেছিল সংসার।
এ বছর রূপার জন্মদিনের সবচেয়ে বড় শূন্যতা—মা আর নেই। তিনি বলেন, “হয়তো পায়েসও হবে না।"
রাত বাড়লে অতিথিরা চলে যাবেন। একাকী দাঁড়িয়ে রূপা তাকিয়ে থাকবেন আকাশের দিকে। তাঁর বিশ্বাস—জ্বলজ্বলে একটি তারা তখন একটু বেশিই উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। সেটাই তাঁর মা, মিটিমিটি হাসছে দূর আকাশ থেকে।
