দিলীপ কুমারকে নিজের ভাই ভাবতেন ধর্মেন্দ্র!
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:৪১, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
ধর্মেন্দ্র দেওল ও দীলিপ কুমার
বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র ছিলেন দিলীপ কুমারের মৃত্যুতে শোকাহত হওয়ার আগেই আজীবন তার নিবেদিতভক্ত। তবে খুব কম মানুষই জানেন—তারুণ্যের শুরুর দিনে এক অদ্ভুত সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। ১৯৫২ সালে কলেজ–পড়ুয়া অবস্থায় লুধিয়ানার তরুণ ধর্মেন্দ্র চট করে বম্বে (বর্তমান মুম্বাই) চলে যান শুধু তার পর্দার দেবতা দিলীপ কুমারকে একবার দেখবেন বলে।
এই চমকপ্রদ ঘটনা উঠে এসেছে দিলীপ কুমারের আত্মজীবনী The Substance And The Shadow–এর ‘Reminiscences’ অধ্যায়ে, যেখানে নিজের মুখেই পুরো গল্প বলেছেন ধর্মেন্দ্র।
ধর্মেন্দ্র লিখেছেন, “‘শহীদ’ ছবিতে দিলীপ সাহেবের অভিনয় আমাকে এমনভাবে স্পর্শ করেছিল যে মনে হতো আমরা যেন ভাই। কেন যে এমন লাগত, আজও বুঝি না।”
১৯৫২ সালে বম্বেতে পৌঁছে পরদিনই পালি মালার বাড়িতে চলে যান ধর্মেন্দ্র। আশ্চর্যজনকভাবে গেটে কেউ বাঁধা দেয়নি। তিনিও ভাবেননি বড় কোনো আনুষ্ঠানিকতা প্রয়োজন। সোজা মূল দরজা পেরিয়ে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উঠে যান ওপরতলার ঘরের সামনে। সেখানে তখন ঘুমোচ্ছেন এক যুবক—ফর্সা, সুদর্শন, সরু গড়ন।
হঠাৎই ঘুম ভেঙে যায় দিলীপ কুমারের। সামনে দাঁড়িয়ে অপরিচিত এক তরুণকে দেখে তিনি খানিক হাঁক দেন। ভয় পেয়ে ধর্মেন্দ্র দৌড়ে নেমে যান সিঁড়ি বেয়ে, বেরিয়ে যান বাড়ির বাইরে। পরে এক ক্যাফেতে বসে ঠাণ্ডা লস্যি খেতে খেতে নিজের বোকামি বুঝতে পারেন।
ধর্মেন্দ্র মনে করিয়ে দেন, পঞ্জাবের গ্রামাঞ্চলে ঘরবাড়ির দরজা সারাক্ষণ খোলা—চাইলে যে কেউ ঢুকে গল্প করতে পারে। সেই আন্তরিকতা থেকেই তিনি ধরে নিয়েছিলেন, প্রিয় নায়কের বাড়িতেও হয়তো সব দরজা খোলা। পরে বুঝেছিলেন—এটা তারুণ্যের সরল ভুল।
তিনি লেখেন, “বম্বে হলো বড় শহর; আর এই বাড়িটি ছিল দিলীপ কুমারের মতো সুপারস্টারের। আমি ভেবেছিলাম পরিচয়ের দরকার নেই—এটাই আমার ভুল।”
এই ঘটনার ছয় বছর পর ১৯৫৮ সালে ধর্মেন্দ্র ফের আসেন বম্বে—তখন ইউনাইটেড প্রোডিউসার্স ও ফিল্মফেয়ার ট্যালেন্ট কনটেস্টে অংশ নিতে। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর তারকাখ্যাতির যাত্রা।
দিলীপ কুমার ও ধর্মেন্দ্রর বহু দশকের বন্ধুত্ব পরে বলিউডে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। কিন্তু ১৯৫২ সালের এই ঘটনা তাঁদের সম্পর্কের সবচেয়ে অকৃত্রিম ও মানবিক স্মৃতি হয়ে আছে।
