ডা. এজাজের স্মৃতিতে অনন্য হুমায়ূন আহমেদ
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২:৫৭, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
ছবি: সংগৃহীত
১৩ নভেম্বর নন্দিত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মদিন। সৃষ্টির জগৎ ছাড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বহু মানুষের আবেগ, স্মৃতি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই দীর্ঘ যাত্রায় তাঁর সবচেয়ে কাছের শিল্পীসঙ্গীদের একজন ছিলেন অভিনেতা ডা. এজাজ—যার পরিচিতি মূলত হুমায়ূনের অভিনয়শিল্পী হিসেবেই গড়ে উঠেছে।
হুমায়ূনের নাটক ও চলচ্চিত্রে স্বতঃস্ফূর্ত, রম্যরসাত্মক এবং প্রাকৃত অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ডা. এজাজ দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন খুব দ্রুতই। দুই দশকেরও বেশি সময়ে একসঙ্গে কাজের সুবাদে গড়ে ওঠে নিবিড় সম্পর্ক। লেখক হুমায়ূন আহমেদ যেমন ছিলেন ভিন্ন মাত্রার সৃষ্টিশীল প্রতিভা, তেমনি একজন মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন অদ্ভুত সরল, মায়ালু ও সংবেদনশীল—এমনটাই মনে করেন এজাজ।
হুমায়ূনকে ঘিরে অগণিত স্মৃতি জমা আছে তার ভাণ্ডারে। প্রথম পরিচয়ের সেই অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত, প্রথম শুটিংয়ের চাপা উত্তেজনা, মাঝেমধ্যে ঘটে যাওয়া মজার ঘটনা, সেটে দীর্ঘ আড্ডা, গভীর রাতের গল্প, আর অবশ্যই শেষ দেখা—সবকিছুই যেন এক জীবন্ত অধ্যায়ের মতো উজ্জ্বল হয়ে আছে তার স্মৃতিতে।
এই কিংবদন্তির জন্মদিন উপলক্ষে মাছরাঙা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘রাঙা সকাল’–এ সেই স্মৃতিগুলো উন্মোচন করেছেন ডা. এজাজ। তিনি বলেছেন—হুমায়ূনের সঙ্গে প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা,শেষবার দেখা করার মুহূর্ত, শুটিংয়ে ঘটে যাওয়া হাস্যরসাত্মক ঘটনা এবং মানুষ হিসেবে হুমায়ূন কতটা নিরহংকারী ও সহজ ছিলেন।
ডা. এজাজ জানান, “হুমায়ূন আহমেদ শুধু আমার পরিচালক বা লেখক ছিলেন না—তিনি ছিলেন আমার জীবন ভুলতে না পারা একজন মানুষ। তাঁর কাছ থেকে আমি মানবিকতার পাঠ শিখেছি।”
হুমায়ূন স্মরণে এই বিশেষ পর্ব ১৩ নভেম্বর সকাল ৭টায় মাছরাঙা টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন রুম্মান রশীদ খান ও অর্চি রহমান।
বাংলা সাহিত্য ও বিনোদনজগতের অমর উপস্থিতি হুমায়ূন আহমেদ আজও বেঁচে আছেন তাঁর সৃষ্টিতে, চরিত্রে এবং স্মৃতিতে—এমনটাই তুলে ধরতে চেয়েছে ‘রাঙা সকাল’-এর এই বিশেষ আয়োজন।
