একই দিনে বাবা-ছেলের জন্মদিন: আলী যাকের ও ইরেশ যাকেরের
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২:৫৫, ৬ নভেম্বর ২০২৫
আলী যাকের ও ইরেশ যাকের। ছবি: সংগৃহীত
৬ নভেম্বর—বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও নাট্যজগতের ইতিহাসে এই তারিখটি এক অনন্য অধ্যায়। কারণ, আজই সেই দিন যেদিন জন্মেছিলেন কিংবদন্তি অভিনেতা, নাট্যব্যক্তিত্ব ও বিজ্ঞাপন জগতের পথিকৃৎ আলী যাকের। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তারই পুত্র জনপ্রিয় অভিনেতা ইরেশ যাকের-এরও জন্মদিন আজই—৬ নভেম্বর।
১৯৪৪ সালের ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের ফিরিঙ্গিবাজারে জন্মগ্রহণ করেন আলী যাকের। মঞ্চ, টেলিভিশন ও বিজ্ঞাপন—সব ক্ষেত্রেই ছিল তার অগ্রণী পদচারণা। ‘নূরুলদীনের সারাজীবন’, ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘কোপেনিকের ক্যাপ্টেন’—এই নাটকগুলোয় তার অভিনয় তাকে করে তোলে অমর। টেলিভিশনে ‘আজ রবিবার’, ‘বহুব্রীহি’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে তার প্রাণবন্ত চরিত্রায়ণ আজও দর্শকের মনে অমলিন।
বিজ্ঞাপন জগতে তিনি ছিলেন এক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সংগঠক—দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিক-এর প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্বাধিকারী।
আলী যাকেরের পুত্র ইরেশ যাকের জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৬ সালের ৬ নভেম্বর। অর্থাৎ, বাবার জন্মদিনেই তার আগমন। অভিনয়ের প্রতি শৈশব থেকেই টান ছিল তার। পরিচালক জিয়াউল হায়দার কিসলুর ‘বাতাসের খাঁচা’ নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি—সহশিল্পী ছিলেন নিজ পিতা। এরপর থেকে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—দুই ক্ষেত্রেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ইরেশ যাকের।
জীবদ্দশায় একবার আলী যাকের মজা করে বলেছিলেন,“ইরেশের জন্ম হওয়ার কথা ছিল ২২ অক্টোবর; কিন্তু সে ঠিক ১৫ দিন দেরি করে ৬ নভেম্বর রাত ৮টায় জন্ম নেয়। আমার জন্ম একই দিন রাত ১০টায়—তাই ছেলেকে বাবার চেয়ে বড়ই বলা যায়।”
এই মন্তব্য আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তার ভক্তরা।
বাংলাদেশের নাট্য ও শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আলী যাকের ১৯৯৯ সালে পেয়েছিলেন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক।
এছাড়াও তিনি পেয়েছেন—বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার,বঙ্গবন্ধু পুরস্কার,মুনীর চৌধুরী পদক,নরেন বিশ্বাস পদক ও মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা।
আজ এই দিনে বাবা ও ছেলের যুগল জন্মদিনে সংস্কৃতি অঙ্গন স্মরণ করছে এক কিংবদন্তি সৃষ্টিশীল পরিবারের অবদান—যাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাটক ও বিজ্ঞাপন পেয়েছিল নতুন দিগন্ত।
