‘আমি নেপোটিজমের ফসল, জীবনটা সহজেই পেয়েছি’
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯:৩৪, ৯ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ০১:৩৯, ১০ অক্টোবর ২০২৫
বলিউড তারকা রণবীর কাপুর নিজেকে “নেপোটিজমের ফসল” বলে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাইয়ের ইনস্টিটিউট হুইসেলিং উডস ইন্টারন্যাশনাল-এ অনুষ্ঠিত সেলিব্রেট সিনেমা ২০২৫ উৎসবে “রাজ কাপুর ও গুরু দত্তকে শ্রদ্ধা” শীর্ষক সেশনে কথা বলতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
রণবীর বলেন,“আমি নেপোটিজমের ফসল, এবং সত্যি বলতে আমার জীবনটা সহজ ছিল। কিন্তু টিকে থাকতে হলে আমাকে নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে। শুধু কাপুর পরিবারের নামেই সাফল্য আসে না। নিজের পরিচয়, নিজের পথ—এটাই আসল চ্যালেঞ্জ।”
তিনি আরও বলেন, কাপুর পরিবারের সাফল্য যেমন আছে, তেমনই ব্যর্থতার গল্পও কম নয়—“আপনারা আমাদের পরিবারের সাফল্য উদ্যাপন করেন, কিন্তু ব্যর্থতাও কম নয়। আসলে ব্যর্থতা থেকেই অনেক কিছু শেখা যায়।”
রাজ কাপুরের প্রপৌত্র ও ঋষি-নীতু কাপুরের সন্তান রণবীর বলেন, ছোটবেলাতেই তিনি সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার ও গায়কদের আসা-যাওয়া দেখে চলচ্চিত্রের জগৎ সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
স্মৃতিচারণ করে রণবীর বলেন, “আমাদের বাড়িতে তখন নানা তর্ক-বিতর্ক চলত, তবে সেগুলো ছিল গানের লিরিক বা দৃশ্য নিয়ে—গৃহস্থালী ঝগড়া নয়,”
“চলচ্চিত্র নির্মাণ কোনো একক প্রচেষ্টা নয়, এটা বহু শিল্পীর সম্মিলিত প্রয়াস। আমার প্রপিতামহ পৃথ্বীরাজ কাপুর বলেছিলেন—‘কলা দেশের সেবায়।’ তাই যদি আমরা শিল্পের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারি, সেটিই সর্বোচ্চ অর্জন।”
রণবীর জানান, তার অভিনয়-পদ্ধতি সিনেমা ও পরিচালকের ধরন অনুযায়ী বদলে যায়।তিনি বলেন, “অভিনেতা হিসেবে আপনাকে নমনীয় হতে হবে। প্রতিটি পরিচালক আলাদাভাবে গল্প বলেন, আর অভিনেতার কাজ হলো সেই ভিশন বাস্তবায়ন করা,” বলেন তিনি।
সঞ্জয় লীলা ভনসালির ব্ল্যাকে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে তিনি জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
“অমিতাভ বচ্চন ও রানি মুখার্জির অভিনয় দেখে আমি বুঝেছিলাম, একজন অভিনেতা কীভাবে দৃশ্যকে নিজের মতো করে রূপ দিতে পারে।”১৮ বছরের ক্যারিয়ারের পর রণবীর এখন তরুণ প্রতিভাদের সঙ্গে কাজ করতে চান।
“আমার স্বপ্ন, একদিন আমি অভিনয়ের প্রশিক্ষক হবো। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করলে আবার নতুন এনার্জি ফিরে আসে,” বলেন তিনি।
বর্তমানে তিনি কাজ করছেন সঞ্জয় লীলা ভনসালির লাভ এন্ড ওয়ার এবং রামায়নামা ছবিতে, যার পরিচালক দঙ্গল খ্যাত নিতেশ তিওয়ারি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুভাষ ঘাই তার ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের জন্য রাজ কাপুর ও গুরু দত্তের নামে দুটি বৃত্তি চালুর ঘোষণা দেন।
