ডাকসু ভিপির মামলা ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ’: ছাত্রদল
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬:৪৮, ২ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৭:১৬, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গ্রাফিক্স : সমাজকাল
অনলাইনে ‘অপপ্রচার’ ও নারী নেত্রীদের সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে কয়েকটি ফেইসবুক পেজ ও আইডির বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রিয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম যে মামলা করেছেন, সেটিকে অনলাইনে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের’ পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সাদিক কায়েম সাইবার মামলা করে অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করেছে। দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থেকে বাকস্বাধীনতা হরণের আওয়ামী-বাকশালি কৌশল রপ্ত করেছে সাদিক কায়েম। তার মামলা সন্ত্রাস থেকে মিম পেইজ, ট্রল পেইজও রেহাই পায়নি। সাদিক কায়েমের মামলা সন্ত্রাস ছাত্রশিবিরের অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ।”
সাদিক কায়েমের মামলার ‘তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ’ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী আমলের সাইবার আইন বিলুপ্ত করে জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পথ উন্মুক্ত করেছে। বর্তমানে সাইবার আইনে মানহানি সংক্রান্ত কোনো মামলা দায়ের করার সুযোগ নাই।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “কিন্তু এই আইনের অপব্যবহার করে সাদিক কায়েম শেখ হাসিনার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। সাদিক কায়েম যে বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে তা সাইবার সুরক্ষা আইন বা অন্য কোনো আইনের অধীনে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত হয় না।”
আইনের অপব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করাই সাদিক কায়েমের ‘উদ্দেশ্য’ মন্তব্য করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২৮ ধারা অনুযায়ী, কেউ জেনেশুনে মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ দায়ের করলে অভিযোগকারী যে অপরাধের অভিযোগ দায়ের করবেন সেই অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।”
“উল্লেখ্য, কিছুদিন পূর্বে সাদিক কায়েম স্বয়ং জনৈক বিএনপি নেতাকে মিথ্যা ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত করে ফেসবুকে পোস্ট করেছিল। তার অনুসারী বটফোর্স অনলাইনে ক্রমাগত নারীদের হেনস্তা এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর সংঘবদ্ধ সাইবার সন্ত্রাস পরিচালনা করছে।”
ডাকসুর ভিপি পদধারীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা দায়ের করা ন্যাক্কারজনক ও নজিরবিহীন ঘটনা বলে মন্তব্য করে ছাত্রদল।
বিএনপির ছাত্র সংগঠনটির ভাষ্য, “সাদিক কায়েম ডাকসুর ভিপি পদকে কলঙ্কিত করেছে। ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য ‘ফ্রিডম অব অনলাইন এক্সপ্রেশন’- এর অধিকারকে অবজ্ঞা করেছে।”
এর আগে গত সোমবার অনলাইনে ‘অপপ্রচার’ ও নারী নেত্রীদের সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে কয়েকটি ফেইসবুক পেজ ও আইডির বিরুদ্ধে মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি আবু সাদিক কায়েম।
মামলায় ডাকসু কণ্ঠস্বর, বঙ্গোগ্রাফ, আমার ডাকসু, দ্য ন্যাশনালিস্ট ডাটা, কাঁঠেরকেল্লা, রৌমারি, বঙ্গইনসাইডার্সসহ বেশ কয়েকটি ফেইসবুক পেইজ এবং এনামুল হক শান্ত, আশিকুর রহমান ও সাইফ আল মাহমুদসহ বেশ কয়েকটি ফেইসবুক আইডিকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, “বেশ কিছু ফেইসবুক আইডির নাম উল্লেখ করে সাদিক কায়েম একটি মামলা করেছে। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।”
