প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আবারও পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:০৩, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যোগ দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনদফা দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে আসার পরও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের ১১টি সংগঠনের যৌথ মোর্চা ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) যুগ্ম-আহ্বায়ক সাবেরা বেগমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাবেরা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, “রবিবার ও সোমবার আমরা দুই দিন অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেছি। এবার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের এ কর্মসূচিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ১১টি সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেছে।”
এদিকে ২১ নভেম্বর ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামে অন্য একটি সংগঠন ৩০ নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে। এ কারণে শিক্ষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে যে, কাদের কর্মসূচি মানা হবে।
সাবেরা বেগম জানান, “শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে আসছে। প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের কর্মসূচিতে আমাদের পক্ষ থেকেও একাত্মতা জানানো হয়েছিল। আমাদের সবার দাবি এক। তাই বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতি পালন করা হবে।”
ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক শাহীনূর আকতার গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “দীর্ঘদিন সহকারী শিক্ষকরা তিনদফা দাবির জন্য আন্দোলন করে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাই কর্মসূচি জোরদার করতে বাধ্য হয়েছি।”
সংগঠন জানায়, দাবি পূরণ না হলে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনসহ ১১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অনশন শুরু করা হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তিনদফা দাবি হলো:
১. দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ।
২. ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান।
3. ৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।
তবে আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় প্রান্তিক বা বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। শিক্ষকদের কর্মবিরতি ঘোষণার কারণে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে এবং প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থীর ক্লাস বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
