ভূমিকম্পে ঝুঁকি এড়াতে অনলাইন ক্লাসসহ মাউশির একগুচ্ছ নির্দেশনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০:১৫, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ভূমিকম্পের ঘটনায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে প্রয়োজনে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ বা অনলাইন ক্লাস চালু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সব অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠায় মাউশি।
গত ২১ নভেম্বর সকালে ঢাকাসহ সারাদেশ ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। এতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু এবং কয়েকশ মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরের দিনও সকালে ও সন্ধ্যায় তিন দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অধিকাংশ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদী হলেও একটি ভূমিকম্পের উৎস ছিল রাজধানীর বাড্ডা।
এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাউশি। চিঠিতে ভূমিকম্পের সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য করণীয়সহ বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
ভূমিকম্পের সময় শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা
নির্দেশনায় বলা হয়েছে—
ভূমিকম্পের সময় শান্ত থাকা এবং আতঙ্কে না ভোগা জরুরি।
ভবনের ভেতরে অবস্থান করলে টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।
ভবনের বাইরে থাকলে ফাঁকা ও খোলা জায়গায় চলে যেতে হবে।
কোনো অবস্থাতেই লিফট ব্যবহার করা যাবে না।
ভূমিকম্পের পর ভবন থেকে বের হওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে, কারণ দেয়াল বা স্থাপনা ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
পানি, খাদ্য, ফার্স্ট এইড কিটসহ জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে হবে।
কলামযুক্ত পাকা ঘরে কলামের গোড়ার অংশে আশ্রয় নিতে হবে।
ওপরতলায় অবস্থান করলে ঝাঁকুনি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, লাফিয়ে নামার চেষ্টা করা যাবে না।
কম্পন থেমে গেলে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত ভবন ছাড়তে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যুতিক-গ্যাস সংযোগ বন্ধ করতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন-স্থাপনার ক্ষেত্রে করণীয়
মাউশি ভবন-সম্পর্কিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাও দিয়েছে—
বিদ্যালয়ের ভবনগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করতে হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার করতে হবে।
এসব ভবনে সতর্কতা চিহ্ন দৃশ্যমানভাবে টানাতে হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিকল্প হিসেবে প্রয়োজন হলে অস্থায়ী ক্লাসরুম বা অনলাইন ক্লাস চালুর ব্যবস্থা করতে হবে।
মাউশি জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য। ভূমিকম্প–ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি থাকা এখন অত্যন্ত জরুরি।
