হল ছাড়ছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:৪৪, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
রোকেয়া হলের সামনে হল ছেড়ে যেতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের । ছবি: সমাজকাল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ছাড়তে শুরু করেছেন। আজ রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দেখা যায় শিক্ষার্থীরা হলগুলো থেকে শিক্ষার্থীরা ব্যাগ-ব্যাগেজসহ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছেন।
গতকাল শনিবার ভূমিকম্প–পরবর্তী উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন। একই সঙ্গে রবিবার (২৩ নভেম্বর) বিকেল ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও একাধিক পরাঘাতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক–মানসিক নিরাপত্তা, হলগুলোর কাঠামোগত স্থায়িত্ব এবং সামগ্রিক ঝুঁকি বিবেচনায় সর্বোচ্চ সতর্কতার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় বুয়েটের ভূমিকম্প–বিশেষজ্ঞ, ঢাবির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর এবং প্রধান প্রকৌশলী তাদের মূল্যায়ন উপস্থাপন করেন। তারা জানান, ভূমিকম্প–পরবর্তী সময়টিতে আবাসিক হলগুলোতে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন, সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণে হলগুলো খালি রাখা জরুরি, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও কাঠামোগত মেরামত ছাড়া শিক্ষার্থীদের ফেরানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের এসব সুপারিশের ভিত্তিতেই ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস, পরীক্ষা এবং হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া প্রাধ্যক্ষদের আগামীকাল বিকেল ৫টার মধ্যে হলগুলো খালি করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রবিবারের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। ভূমিকম্পের পর শিক্ষার্থীদের আতঙ্ক এবং আবাসিক ভবনগুলোর বিভিন্ন স্থানে ফাটল–চিহ্ন দেখা দেওয়ার কারণে এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে- বিজ্ঞপ্তিতে এমনটিও জানানো হয়েছে।
ঢাবির এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীরা স্বস্তির সঙ্গে নিলেও অনেকেই হল ছাড়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাই এখন তাদের একমাত্র অগ্রাধিকার।
