টার্গেট ১৯৫ দেশের পুরুষ
অন্যরকম ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:১১, ২৭ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ০৮:২০, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
কোকো বে। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের প্রতিটি দেশের পুরুষের সঙ্গে ঘুমাতে চায় তরুণী। আপাতত ১৯৫ টি দেশ তিনি টার্গেট করেছেন। ইতোমধ্যেই তিনি ৪৬ দেশের পুরুষের সঙ্গে ঘুমিয়েছেন। এই তরুণী তার অভিজ্ঞতার আলোকে বলেছেন, কোন দেশের পুরুষ বিছানায় সবচেয়ে ভালো এবং কোন দেশের খারাপ।
ডেইলি মেইল জানায়, কানাডার এই তরুণীর নাম কোকো বে। তার বয়স এখন ৩৭ বছর।
বিভিন্ন দেশের পুরুষের সঙ্গে কোকো বের ঘুমানোর বিষয়টি খুব মজার। যে দেশের পুরুষের সাথে তিনি সম্পর্ক স্থাপন করেন, মিশন শেষ হওয়ার পর তার কাছ থেকে একটি ছোট্ট পতাকা সংগ্রহ করেন।
কোকো বলেছেন, জার্মান পুরুষরা বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ প্রেমিক, অন্যদিকে ব্রাজিলিয়ানরা সেরা।
ওনলিফ্যান্সের এই পর্ন তারকা গত বছর এপ্রিল মাসে অস্ট্রেলিয়ার কিজ রেডিওর এক শোতে উপস্থাপক কাইল স্যান্ডিল্যান্ডস এবং জ্যাকি ওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন দেশের পুরুষদের সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতার কথা বলেন। তিনি বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ান পুরুষদের স্বাস্থ্যবিধি উন্নত করতে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। কিন্তু ব্রিটিশ পুরুষরা খুব চিত্তাকর্ষক।

কোকো বে। ছবি: সংগৃহীত
২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেওয়া এই পর্নো তারকা রেডিও হোস্টদের কাছে প্রকাশ করেছিলেন, মিশন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তার একটি নিয়ম রয়েছে।
পুরুষদের সঙ্গে তিনি কোথায় ঘুমাবেন সেটি বড় কথা নয়। পাসপোর্টে তারা কোন দেশের নাগরিক, সেটাই বড় বিষয়। একেকটি দেশের পুরুষের সঙ্গে ঘুমানোর পর তিনি একটি করে বিজয় অর্জন করেন। তারপর তিনি সেই পুরুষের কাছ থেকে সেই দেশের একটি ছোট পতাকা সংগ্রহ করেন।
কোকো বলেছেন, পুরুষের সঙ্গে ঘুমানোর আগে তিনি তার সঙ্গে দেখা করেন। নানা প্রশ্ন করে তিনি পুরুষ নির্বাচন করেন। পছন্দ হলে পাঁচ তারকা হোটেলে সেই পুরুষের সঙ্গে তিনি ডেটে যান।
পার্থনাউকে তিনি আরও বলেছেন, ইতোমধ্যেই তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েল, অস্ট্রেলিয়া, হাইতি, এল সালভাদোর, হল্যান্ড, নরওয়ে, গ্রীস, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানি, ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড, বেলিজ, জিবুতি, নিকারাগুয়া, ইতালি, গুয়াতেমালা, সুইজারল্যান্ড এবং আর্জেন্টিনার পুরুষদের সাথে মিলিত হয়েছেন।
এছাড়াও হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, থাইল্যান্ড, রাশিয়া, আলবেনিয়া, ব্রাজিল, ভারত, স্পেন, পেরু, লেবানন, আলজেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, আর্মেনিয়া, স্কটল্যান্ড, ইউক্রেন, জ্যামাইকা এবং নিউজিল্যান্ডের পুরুষদের সাথেও সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।
সম্প্রতি, কোকো তার বিজয়ের তালিকায় নেপাল, পর্তুগাল, চেক প্রজাতন্ত্র, লিথুয়ানিয়া এবং নেদারল্যান্ডসকে যুক্ত করেছেন। এবং তার মিশনও চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
কোকো তার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, উল্লিখিত দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ানরা সবচেয়ে খারাপ এবং নোংরা। তিনি জনপ্রিয় রেডিও শো হোস্টদের বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ান পুরুষদের স্বাস্থ্যবিধি উন্নত করা দরকার। তিনি জ্যাকি ও কাইলকেও বলেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ান পুরুষদের স্বাস্থ্যবিধি উন্নত করা জরুরি। কিন্তু তোমরা কোনও চেষ্টা করছো না। তোমাদের অবশ্যই হাত ধোওয়া দরকার, অস্ট্রেলিয়ান পুরুষদের পরামর্শ রেখে জানান কোকো।
কোকো বলেছেন, বিছানায় তার প্রিয় ল্যাটিনো, বিশেষ করে ব্রাজিলিয়ান পুরুষ। তাদের তিনি মজাদার ও হট এবং ক্যালিয়েন্ট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু জার্মানরা ভয়াবহ।
তিনি বলেন, জার্মানি থেকে আসা আমার প্রথম পুরুষটি সত্যিই বিরক্তিকর ছিলো। তবে যুক্তরাজ্যের একজন পুরুষের সাথে তার অভিজ্ঞতা সত্যিই ভালো ছিলো, বলেন কোকো।
কোকো গত বছর দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, যৌনশিল্পে আসার আগে তিনি কানাডার একটি রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় নিযুক্ত ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি সেই দলের নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
কানাডার একটি ছোট গ্রামীণ শহরে রাজনৈতিক দল এমএইচএ বা হাউস অব অ্যাসেম্বলির সদস্যদের সাথে কোকো যুক্ত ছিলেন।
পুরস্কারপ্রাপ্ত এই পর্নো তারকা বিভিন্ন সময়ে টেলিফোনে দলের প্রচারণা চালাতেন। একইসঙ্গে আর্থিক অনুদানের জন্য আহ্বান জানাতেন।
কিন্তু নির্বাচনের আগের দিন তার দলের প্রার্থী পদত্যাগ করেন। তখন হতাশার এক মুহূর্তে তিনি আলোচনায় আসেন এবং তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য আমি প্রস্তুতও ছিলাম না। কিন্তু আমাকে প্রচারণায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। আমি ফোনে কাজ করছিলাম এবং হঠাৎ আমার বস আতঙ্কিত হয়ে এসে বলেন যে ব্যালট পেপার লাগানোর জন্য তার খুব প্রয়োজন। কারণ প্রার্থী বাদ পড়েছেন।
তার দল মাত্র চার শতাংশ ভোট পেয়েছিলো। ভোটে হারার পর দল থেকে কোকো পদত্যাগ করেন। রাজনীতিতে তার সেই শুরু এবং সেই শেষ।
যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, তার প্রচারণা ভালো ছিলো। বর্তমান কাজের ধরণ আরও ভালো, জানান কোকো।

কোকো বে। ছবি: সংগৃহীত
অতীতের পেশা সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে মন্ট্রিলের কয়েকটি বারে ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করেছিলেন। এছাড়াও তার জন্মস্থান কানাডার স্ট্রিপ ক্লাবে ছিলেন একজন নৃত্যশিল্পী। তখন তিনি প্রতি রাতে ৪০ হাজার টাকা আয় করতেন।
এর কয়েক বছর পর ২০১৭ সালে তিনি ওনলি ফ্যানসে অ্যাকাউন্ট খোলেন। প্রথমে তিনি অনলাইনে নিজের নগ্ন এবং স্বল্প পোশাক পরা ছবি বিক্রি করতেন। তখনো তিনি পর্নো শিল্পে পা রাখেননি।
তিনি বলেন, আমি ওনলিফ্যান্সে একাউন্ট করেছিলাম শুধু নগ্নতার জন্য, পর্নের জন্য নয়। যেখানে যৌনতা ছাড়াই অর্থ উপার্জন করতে পারি, সেখানে আমি কেন বিছানায় শোব।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় স্থানান্তরিত হয়ে নতুন বাড়িতে স্থায়ী হওয়ার পর তার অনেক টাকার প্রয়োজন পড়ে। তখন বাধ্য হয়ে শুরু করেন পর্নো তারকার ক্যারিয়ার।
বর্তমানে কোকোর ক্যারিয়ার ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তিনি তিনটি এভিএন পুরস্কার জিতেছেন, যা পর্ণ সিনেমার অস্কার নামে পরিচিত। কোকো বলেন, আর নয়দশটি কাজের সাথে লেগে থাকার মতোই তিনি পর্ণশিল্পে নমনীয়ভাবে লেগে থাকা পছন্দ করেন।
