ঠাকুরগাঁও–রাণীশংকৈলে সার বিতরণ নিয়ে হট্টগোল
কৃষি কর্মকর্তার দাঁত ভেঙে দিলেন কৃষক
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০০:০৪, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সইদুল ইসলাম আকতার দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ছবি: সমাজকাল।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সার না পেয়ে উত্তেজিত কৃষকদের হট্টগোলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকতার হোসেন মারধরের শিকার হয়েছেন। এতে তার দাঁত ভেঙে যায়। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার উমরাডাঙ্গী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
চলতি মৌসুমে গম, ভুট্টা ও সরিষা চাষের কারণে জেলায় রাসায়নিক সারের চাহিদা বেড়েছে, তবে সরবরাহ কম থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কৃষকরা ভোগান্তিতে রয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই উমরাডাঙ্গী বাজারের ডিলার মল্লিক ট্রেডার্সের দোকানে সার নিতে কৃষকদের ভিড় বাড়তে থাকে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মল্লিক ট্রেডার্সের প্রতিনিধি মোজাম্মেল হোসেন কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করছিলেন। এ সময় তিনটি ভ্যানে করে পাঁচজন কৃষক একজনের নামে ৩৩ বস্তা সার নেওয়ার চেষ্টা করলে অন্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সার পাওয়া নিয়ে সন্দেহ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকতার হোসেন সেখান থেকে সরে যান। পরে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন ঘটনাস্থলে এসে ক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সেখানে আসার অনুরোধ জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সইদুল ইসলাম আকতারকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে এলে উত্তেজিত কৃষকদের একটি অংশ আকতারকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তার দাঁত ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে রাণীশংকৈল উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ডিলার মল্লিক ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মোজাম্মেল হক বলেন,“ব্যস্ততার কারণে পাঁচজন কৃষকের সার এক মেমোতে দিয়েছিলাম। এখানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকতারের কোনো ভুল নেই।”
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। রাণীশংকৈল থানার ওসি জানান, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
