উখিয়ায় রহিমা হত্যাকাণ্ডে স্বামী জসিম গ্রেপ্তার
উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১:৩১, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
জসিম উদ্দিন। ছবি : সমাজকাল।
কক্সবাজারের উখিয়ায় তচ্ছাখালী খাল থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দী অর্ধগলিত মরদেহঘটিত রহিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডে তদন্তে বড় অগ্রগতি এসেছে। ঘটনার দীর্ঘ ১৮ দিন পর এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও নিহতের স্বামী জসিম উদ্দিন (৩৫)–কে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব–১৫।
রবিবার (১ ডিসেম্বর) রাতে র্যাব–১৫–এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল, র্যাব–৭ এবং স্থানীয় সোর্সের সহযোগিতায় পূর্ব গোমদন্ডী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
গত ১৩ নভেম্বর উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের তচ্ছাখালী খাল থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় অর্ধগলিত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিচয় নিশ্চিত হয়—তিনি রহিমা আক্তার (৩০), জালিয়াপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা আমির হোসেনের মেয়ে এবং পশ্চিম মরিচ্যার জসিম উদ্দিনের স্ত্রী।
পরিবার জানায়, ৬ নভেম্বর রাত ১১টার পর থেকে রহিমা নিখোঁজ ছিলেন।এ ঘটনায় নিহতের মা সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আর কয়েকজনকে আসামি করে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
র্যাব–১৫ জানিয়েছে, প্রায় ১০ বছর আগে জসিম–রহিমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই জসিম শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন, যা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা অস্থিরতা চলছিল। সম্প্রতি দাম্পত্য কলহ বাড়তে থাকায় জসিম প্রায়ই স্ত্রীকে তালাক ও হত্যার হুমকি দিতেন।
তদন্ত সূত্র জানায়,৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় ‘শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার’ প্রলোভন দেখিয়ে জসিম স্ত্রীকে বাড়ির পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে সহযোগী মোবারকের সহায়তায় হাত–পা চেপে ধরে গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।
পরদিন স্থানীয়দের সন্দেহ হলে জসিম দাবি করেন যে, সেখানে তারা একটি মৃত গরু পুঁতে রেখেছেন। কিন্তু সন্দেহ বাড়তে থাকায় সেখান থেকে রাতেই মরদেহ তোলা হয়, বস্তায় ভরে তচ্ছাখালী খালে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর থেকেই জসিম পলাতক ছিলেন। র্যাব–১৫–এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক বলেন—“ঘটনার শুরু থেকেই র্যাব গোয়েন্দা দল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করেছে। তথ্য–প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির সমন্বয়ে প্রধান আসামি জসিম উদ্দিনের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হই। পরে বোয়ালখালীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।”
তিনি আরও বলেন—“গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জসিম স্ত্রী রহিমাকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। হত্যায় সহায়তাকারী অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
