নতুন সেতুতে উঠতে লাগে কাঠের সাঁকো!
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭:২৬, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৭:৩০, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
সেতুর দুই পারে যেতে পার হতে হচ্ছে কাঠ-বাঁশের সাঁকোটিও। ছবি: সমাজকাল
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি ইউনিয়নের নতুন ঘাটাবাড়ি গ্রামের কোনাই নদীতে নবনির্মিত কংক্রিট সেতুতে উঠতে লাগে কাঠ-বাঁশের সাঁকো! দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন খুকনি ছাড়াও জালালপুর ও কৈজুরি ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খুকনি বাজার-কাইজ্যা বিশ্বনাথপুর সড়কে পৌনে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি। আট মাস আগে সেতুটি খুলে দেওয়া হলেও সংযোগ সড়ক তৈরি না করেই ঠিকাদাররা পালিয়ে গেছেন। ফলে স্বেচ্ছাশ্রমে নিজেদের অর্থায়নে সেতুর দুপাশে কাঠ-বাঁশ দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করে পারাপার হচ্ছেন তারা।
তারা জানান, খুকনি ইউনিয়নের পোড়াকম, বিশ্বনাথপুর, ক্যাইজা, নতুন ঘাটাবাড়ি, সড়াতৈল ও রূপসী, জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর ও চ্যাংটাপাড়া, কৈজুরি ইউনিয়নের পাচিল, জয়পুরা ও গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দারা সেতুটি পার হতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। মানুষজন হেঁটে যেতে পারলেও পণ্যবাহী ভ্যান-রিকশা ও মোটরসাইকেলসহ ভারি যানবাহন পারাপার হতে পারছে না। বিকল্প সড়ক না থাকায় ভারি পণ্যও নিতে হচ্ছে মাথায় করে। ফলে পুরো অঞ্চলে উৎপাদিত ধান-চাল, সবজি ও কৃষিপণ্য বাজারে নেওয়া কষ্টকর হচ্ছে। অসুস্থ ও গর্ভবতী নারী, শিশুসহ রোগীদের হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নিতেও সেতুটিতে ওঠা-নামা করাতে হচ্ছে বাঁশের চাঙারি বা ঘাড়ে করে। এতে পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে সবাইকে।
অন্যদিকে একটু বৃষ্টি হলেই কাঠ-বাঁশের সংযোগ সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফলে প্রায়ই পণ্য বহণকারী ব্যক্তি ও স্কুলগামী শিশুরা পা পিছলে খাঁদে পড়ে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ‘সিরাজগঞ্জ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় তিন কোটি ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩৭ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণ শুরু হয়। দীর্ঘ চার বছরের নানা জটিলতা কাটিয়ে আট মাস আগে কাজ শেষ হয়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড সেতুটির দুই পাশে এখনও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দেয়নি।
সরেজমিনে গেলে আশরাফ আলী, হযরত আলী সোহেল রানা, আব্দুস সালাম, ফটিক মিয়া, আব্দুল জব্বার, নাঈম ইসলাম, মান্নান মোল্লা, মনিরুল ইসলাম ও ফজলুল করিম জানান, নিরুপায় হয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রশাসনের কাছে বার বার আবেদন জানান তারা। কিন্তু কাজ না হওয়ায় তারা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুটির দুপাশে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ১৫/২০ ফুট দৈর্ঘ্যের সাঁকোটি তৈরি করেছেন। চরম ঝুঁকি নিয়ে এর ওপর দিয়েই কংক্রিট সেতুটি পারাপার হচ্ছেন তারা।
ভ্যানচালক মোজা সরকার জানান, খুকনি বা এনায়েতপুর থেকে মালামাল এনে মাথায় করে সেতু পার হতে হয়। এরপর ভ্যান পার করতে হয়। এজন্য ২/৩ জন সহযোগী লাগে। এতে অতিরিক্ত খরচ ও শ্রম ব্যয় হয়, যা খুবই কষ্টদায়ক।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী এ এইচ এম কামরুল হাসান রনি বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক দ্রুত নির্মাণে লিখিত নির্দেশ দিয়েছি। তাদের শেষ কিস্তির বিলের টাকাও আটকে দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়েছি, সংযোগস্থলে মাটি ভরাট শুরু করেছেন ঠিকাদার। সময়মতো কাজ শেষ না হলে তার বিল বাতিল ও নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে’।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
