‘শাহজাহান চৌধুরীর বার্তাতেই জামায়াতের নীলনকশা উন্মোচিত’
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৩:৫৮, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন আবুল হাশেম বক্কর। ছবি: সমাজকাল
‘শাহজাহান চৌধুরীর পুলিশ নিয়ন্ত্রণের বার্তাতেই জামায়াতের নীলনকশা উন্মোচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। ‘শেখ হাসিনা যেভাবে প্রশাসনকে ব্যবহার করে দিনের ভোট রাতে ব্যালট বাক্সে ভরেছিলেন, জামায়াতও সেই পথেই হাঁটতে চাইছে। শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যেই সেটি স্পষ্ট হয়েছে’ বলেও অভিযোগ তার।
আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ‘জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক মন্তব্যেই প্রকাশ পেয়েছে, তারা প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সাজানো নির্বাচনের নীলনকশা আঁটছে। এই চক্রটি ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন বিলম্বিত ও প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। তারা কখনো পিআর পদ্ধতির কথা বলে, কখনো গণভোটের দাবি তোলে। আবার ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিয়ে রাত-দিন প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার, তারা ধর্মকে ব্যবহার করছে এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চাইছে। ভোটের মাঠ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তুতি চালাচ্ছে’।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর লালদিঘি জেলা পরিষদ চত্বরে কোতোয়ালি থানা বিএনপির গণসংযোগ পূর্ববর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আবুল হাশেম বক্কর। চট্টগ্রাম-৯ আসনে কোতোয়ালি থানার ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে উৎসাহিত করে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনমত গঠনের লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। তবে মনোয়ন পেতে আগ্রহী আবু বক্কর।
সমাবেশে তিনি বলেন, ‘শাহজাহান চৌধুরী জামায়াতের অনেক কুখ্যাত ঘটনার নায়ক। তিনি রাজাকারের বংশধর। শাহজাহান চৌধুরী বলছেন, পুলিশ প্রশাসন নাকি জামায়াতের কথায় উঠবে বসবে। এমন বক্তব্যই প্রমাণ করে, তারা কেন্দ্র দখল ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে। রাজাকারের বংশধর হয়েও তিনি হুমকি দিয়ে বলছেন, যারা তাকে চেনেন না, তারা নাকি মাটির নিচে বাস করেন। আমরা তাকে খুব ভালোভাবেই চিনি। তার রক্তে রঞ্জিত অতীত, রগকাটার ইতিহাস চট্টগ্রামের মানুষ ভুলে যাননি’।
বৃহত্তর পরিসরে গণসংযোগ করতে জুমার নামাজের পর থেকেই নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জেলা পরিষদ চত্বরের সমাবেশে আসেন। সনাতন সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক মানুষও মিছিল নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন। সমাবেশ শুরুর আগে গুরুতর অসুস্থ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে লালদিঘির পাড় থেকে বক্সি বিট হয়ে আন্দরকিল্লা মোড়, চেরাগি মোড় হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে গণসংযোগ শেষ করেন আবুল হাশেম বক্কর। পথচারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণও করেন তিনি।
ঘরে ঘরে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সালাম পৌঁছে দিতে এবং ধানের শীষে ভোট চাইতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান আবুল হাশেম বক্কর।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, জামায়াত যে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় নিজস্ব লোক বসানোর চেষ্টা করছে, বিএনপি তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যারা জামায়াতের হয়ে কাজ করছে তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। ওই ধরনের কাউকে সামনে রেখে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।
কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আবদুল মান্নান ও সদস্য খোরশেদ আলম, ইসমাইল বালি, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি লায়ন আর কে দাশ রুপু ও কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, মহানগর বিএনপির সবেক নেতা সাহেদ বক্স, শাহ আলম, ইয়াছিন চৌধুরী আসু, হাজী নরুল আকতার, আমিন মাহামুদ, ইউনুছ চৌধুরী হাকিম ও আবদুল বাতেন, বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক হাজী নবাব খান, আলী আবাবাস খান, এস এম মফিজ উল্লাহ, তৌহিদুস সালাম নিশাদ, সাদেকুর রহমান রিপন ও চৌধুরী সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী রাশেদ, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমদ, সৈয়দ আবুল বসর, জসিম মিয়া, হাজী আবু ফয়েজ, দিদারুল আলম, আলমগীর আলী, ইকবাল হোসেন সংগ্রাম, মো. সরওয়ার, ওসমান গনি ও মো. জাহেদ, মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম খাঁন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক বাদশা, বিএনপি নেতা সুলতান মহামুদ সুমন, কলিম উদ্দিন, দিদারুল ইসলাম দিদার ও প্রশান্ত কুমার পান্ডে এবং বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা রেজিয়া বেগম মুন্নি, তাসলিমা আহমদ, কামরুনন্নেছা, মো. ইদ্রিস আলম, মো. মুছা, মো. হাসান, দুলাল সওদাগর, শামিম আহমদ, মো. ইদ্রিস, মাঈন উদ্দিন খান রাজিব, আবু সালেহ আবিদ ও মো. আরিফ।
