টাঙ্গাইলে সিজারিয়ানে প্রসূতির মৃত্যু
অবহেলার অভিযোগ, রাতে ৩ লাখ টাকায় ‘মীমাংসা’
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩:৫৮, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
টাঙ্গাইলে সিজারিয়ানে প্রসূতির মৃত্যু। ফাইল ছবি
টাঙ্গাইলের মধুপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে খাদিজা খাতুন (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু ঘিরে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে হাসপাতাল রোডের এশিয়া হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। রাতে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মৃতের পরিবারের মধ্যে ৩ লাখ টাকায় মীমাংসা বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে।
মৃত খাদিজা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কেশোরগঞ্জ এলাকার বাকতা গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহীন মিয়ার স্ত্রী। পরিবারের দাবি—এটি ছিল তার দ্বিতীয় সিজার। অপারেশন করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. শিমলা আফতাব শাওন।
স্বজনদের অভিযোগ, সিজারের পরপরই খাদিজার শরীরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। অপারেশনের পর দীর্ঘ সময় রোগীর কাছে কাউকে যেতে দেওয়া হয়নি এবং অবহেলার কারণেই খাদিজার মৃত্যু হয়েছে।
তাদের দাবি—সন্ধ্যায় খাদিজাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে পাঠানোর কথা বলে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময়ই তিনি মারা গিয়েছিলেন। পরে মৃত্যুর বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করা হয়।
হাসপাতালের অন্যতম পরিচালক মানিক সাহা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—“অপারেশনের পর রোগীকে পোস্ট-অপ রুমে রাখা হয়, সেখানে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। খাদিজার আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট ছিল। রক্তক্ষরণ ও শ্বাসকষ্টের কারণে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থা খারাপ হওয়ায় রেফার করা হয়।”
তার দাবি—ময়মনসিংহে নিতে দেরি হওয়াতেই খাদিজার মৃত্যু হয়েছে।
খাদিজার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিবার চিকিৎসার কাগজপত্র চাইলে হাসপাতাল তা দিতে অপারগতা দেখায়, ফলে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে হাসপাতাল প্রশাসন ও মৃতের পরিবারের মধ্যে বৈঠক বসে। সেখানে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ‘মীমাংসা’ হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
মধুপুরে সমাজকালের প্রতিনিধির পরিদর্শনে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি থাকা সিজার-প্রত্যাশী বেশ কয়েকজন রোগী ঘটনাস্থলের উত্তেজনার কারণে রাতেই হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় আতঙ্ক ও অসন্তোষের পরিবেশ বিরাজ করছে।
