দুটি বিতর্কিত অভিযানের পর র্যাব-১৫–এ ‘গণবদলি’
উখিয়া–টেকনাফ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২:৫৪, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১২:৫৭, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
দুটি বিতর্কিত অভিযানের পর র্যাব-১৫–এ ‘গণবদলি’। ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজার–বান্দরবানের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তাঞ্চলে ইয়াবা উদ্ধার, মামলায় কম দেখানো এবং আর্থিক অনিয়ম—এমন গুরুতর অভিযোগের মুখে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) বিশেষায়িত ইউনিট র্যাব-১৫–এ ঘটেছে নজিরবিহীন গণবদলি। ইউনিটটির সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানসহ তিন শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে।
র্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে একে ‘নিয়মিত বদলি’ বললেও, সদর দপ্তরের অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও দুটি আলোচিত অভিযানের প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র সমাজকালকে জানিয়েছে।
র্যাব সদর দপ্তরের প্রশাসন–অর্থ শাখার অনুমোদনে ১৯ নভেম্বর জারি হয় দুটি প্রজ্ঞাপন—একটিতে ১৯৮ জন এবং অন্যটিতে ২০০ জন সদস্যকে বদলি। ২৮ নভেম্বর আরও ৭৪ জনকে বদলি করা হয়। তিন দফায় বদলির তালিকায় সবচেয়ে বড় অংশটি র্যাব–১৫–এর সদস্যদের।
র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেকাব চৌধুরী জানান, এক বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি নিয়মিত রোটেশনের অংশ বলেই তার দাবি।
নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান।
৭ সেপ্টেম্বর উখিয়ার কুতুপালং পশ্চিম পাড়ায় র্যাব–১৫-এর অভিযানে দুই নারীকে ৮৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নগদ ১৬ লাখ ৭১ হাজার টাকাও উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এজাহারে তথ্যভ্রষ্টতা ও অসংগতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন তৈরি হয়।
সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনকে মামলায় ‘নামের মিল’ দেখিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেলিম দাবি করেছেন, প্রকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীর সঙ্গে নাম মিলিয়ে তাকে টার্গেট করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, অভিযানে ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি ইয়াবা আত্মসাৎ হয়েছে—এমন গুঞ্জন এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নভেম্বরের শুরুতে সদর দপ্তর থেকে একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
২৬ সেপ্টেম্বর টেকনাফের লেদা এলাকায় ডজন মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার দেখায় র্যাব–১৫। কিন্তু জব্দতালিকায় মাত্র ৭টি ইটের টুকরা ও দুটি কাঠের লাঠি দেখানো হয়।
এটি স্থানীয়দের মধ্যে রীতিমতো বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
এই দুই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন তখনকার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান।
র্যাবের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র বলছে, তার ঘনিষ্ঠ টেকনাফ এফএস কমান্ডার কর্পোরাল ইমাম ছিলেন এসব অভিযানের মূল নেপথ্য ব্যক্তি।
র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে ইয়াবা লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে উইং কমান্ডার ইন্তেকাব চৌধুরী সমাজকালসহ গণমাধ্যমকে বলেন, “যদি কেউ অপরাধে জড়িত থাকে, অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র্যাব সবসময় তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনে।”
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনাতেও দোষীরা ছাড় পাবে না।
