সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ৩০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২:৪২, ২৮ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ০২:৪৪, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
তাড়াশ উপজেলায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহতরা। ছবি: সমাজকাল
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মাধাইনগর ইউনিয়নের সরাপপুর গ্রামের একটি বিবদমান পুকুরে মাছ ধরার সময় এ সংঘর্ষ হয়। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নিমগাছি সমাজভিত্তিক মৎস্য চাষ প্রকল্পের আওতায় সরাপপুরের প্রায় আট বিঘা আয়তনের ‘মঙ্গলা পুকুর’ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সুফলভোগী সদস্যদের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের দখলে পুকুরে মাছ ছাড়ার দাবি করে আসছিল। শুক্রবার সকালে রাশেদুল ইসলাম রাসুর নেতৃত্বে একদল লোক পুকুরে মাছ ধরতে নামলে প্রতিপক্ষ নজরুল ইসলামের অনুসারীরা বাধা দেয়। মুহূর্তেই উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। এর মধ্যে রাশেদুল ইসলাম রাসু (৪৫), আলমাছ উদ্দিন (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪০), দেলবর হোসেন (৫০) ও লজরুল ইসলাম (৪৫) গুরুতর জখম হন। তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহতদের ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শ্যামল কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সংঘর্ষে বহুজন আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজনের আঘাত মারাত্মক। দ্রুত রেফার করা হয়েছে।”
এদিকে, ঘটনার পরপরই পুলিশ সরাপপুর এলাকায় মোতায়েন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
