শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

| ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

সেন্টমার্টিনের দুটি ট্রলারসহ ১২ জেলেকে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

টেকনাফ–উখিয়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০:৫২, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

সেন্টমার্টিনের দুটি ট্রলারসহ ১২ জেলেকে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

সেন্টমার্টিনের দুটি ট্রলারসহ ১২ জেলেকে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরের অদূরে মাছ ধরতে যাওয়া সেন্টমার্টিনের দুটি ফিশিং ট্রলারসহ আরও ১২ বাংলাদেশি জেলেকে তুলে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। বৃহস্পতিবার ভোরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের ছেঁড়াদিয়া এলাকার পূর্বদিকে মাছ শিকারের সময় তাদের ধরে নেওয়া হয়।

সেন্টমার্টিন ফিশিং ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আজিম উদ্দিন সমাজকালকে জানান, ভোররাতে আরাকান আর্মির সশস্ত্র সদস্যরা ট্রলার দুটি ঘিরে ফেলে জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়। আটক ট্রলার দুটির মালিক সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা মো. ইলিয়াস ও নুর মোহাম্মদ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ট্রলার মালিক নুর মোহাম্মদ বলেন, “বুধবার কবির মাঝির নেতৃত্বে ছয়জন জেলে আমার ট্রলারে করে ছেঁড়াদিয়া এলাকায় মাছ ধরতে যায়। মাঝরাতে বোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে তারা আটকা পড়ে। ভোরে আরাকান আর্মি এসে সবাইকে ধরে নিয়ে যায়।”তিনি বলেন, এই ঘটনায় পুরো জেলে সমাজ চরম আতঙ্কে রয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক’ জানিয়েছে, ২৮ অক্টোবর থেকে আরাকান আর্মির উপকূলীয় নিরাপত্তা ইউনিট সমুদ্রপথে টহল জোরদার করেছে। টহলের সময় আরাকান রাজ্যের জলসীমা অতিক্রম করেছে—এমন অভিযোগে কয়েকটি বাংলাদেশি ট্রলার শনাক্ত করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ১৮৮ বাংলাদেশি জেলে ও ৩০টি নৌকা আটকের পর পরবর্তীতে মুক্তি দেওয়া হয়।

সবশেষ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের দুটি ট্রলারসহ ১২ জেলে আটক করার খবরটিও প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

সেন্টমার্টিন ফিশিং ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আজিম উদ্দিন বলেন, “এর আগেও দেড় শতাধিক জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। অনেকেই এখনও তাদের হেফাজতে। এখন নতুন করে ১২ জনকে ধরে নেওয়ায় সেন্টমার্টিনের জেলেদের মধ্যে ভয়-উদ্বেগ আরও বেড়েছে।”

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “আমরা ঘটনাটি জানার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ট্রলার মালিক ও বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, গত ১১ মাসে (গত বছর ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত) নাফনদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় টহলের সময় মোট ৩২৮ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। বিজিবির মধ্যস্থতায় কয়েক দফায় ১৮৯ জেলে ও ২৭টি ট্রলার ফেরত আনা গেলেও এখনও ১৬৪ বাংলাদেশি জেলে এবং ২২টি ট্রলার রাখাইন রাজ্যের কারাগার ও হেফাজতে বন্দি রয়েছে।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ:

তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে সরকারের কোনো বাধা নেই: প্রেস সচিব
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাল থেকে অনলাইন ক্লাস শুরু
ব্যবসায়ীদের কমফোর্ট জোন দিতে ব্যর্থ রাজনীতি: জামায়াত আমির
অবস্থার উন্নতি হলে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি
ই-রিটার্নে রেকর্ড: ২০ লাখের বেশি রিটার্ন দাখিল
খেলাপি ঋণ সংকট কাটাতে ১০ বছর লাগবে: গভর্নর
ফ্লাই করার মতো অবস্থায় নেই খালেদা জিয়া—এভারকেয়ার থেকে জানালেন মান্না
এভারকেয়ার হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ বিএনপির
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
খালেদা জিয়াকে সিঙ্গাপুর বা ইউরোপে নিতে এয়ারঅ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত
খালেদা জিয়াকে নিয়ে মুশফিকুলের আবেগঘণ স্মৃতিচারণ ‘আমার ব্যক্তিগত ঋণ’
‘লুটপাটকারীদের শাস্তি দিন, কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বেকারত্ব বাড়াবেন না’ — মির্জা ফখরুল
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যা বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
খালেদা জিয়ার অবনতিশীল শারীরিক অবস্থায় রাষ্ট্রপতির গভীর উদ্বেগ
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় উপদেষ্টার পরিষদের সভায় দোয়া
তফসিল কবে জানালেন সিইসি নাসির উদ্দিন
দুটি বিতর্কিত অভিযানের পর র‍্যাব-১৫–এ ‘গণবদলি’
বেগম জিয়া গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অনন্য অনুপ্রেরণা: নাহিদ ইসলামের বিবৃতি
দেশে ফেরার বিষয়ে কথা বললেন তারেক রহমান
ইন্দোনেশিয়ায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে