সেন্টমার্টিনের দুটি ট্রলারসহ ১২ জেলেকে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি
টেকনাফ–উখিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০:৫২, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
সেন্টমার্টিনের দুটি ট্রলারসহ ১২ জেলেকে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরের অদূরে মাছ ধরতে যাওয়া সেন্টমার্টিনের দুটি ফিশিং ট্রলারসহ আরও ১২ বাংলাদেশি জেলেকে তুলে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। বৃহস্পতিবার ভোরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের ছেঁড়াদিয়া এলাকার পূর্বদিকে মাছ শিকারের সময় তাদের ধরে নেওয়া হয়।
সেন্টমার্টিন ফিশিং ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আজিম উদ্দিন সমাজকালকে জানান, ভোররাতে আরাকান আর্মির সশস্ত্র সদস্যরা ট্রলার দুটি ঘিরে ফেলে জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়। আটক ট্রলার দুটির মালিক সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা মো. ইলিয়াস ও নুর মোহাম্মদ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ট্রলার মালিক নুর মোহাম্মদ বলেন, “বুধবার কবির মাঝির নেতৃত্বে ছয়জন জেলে আমার ট্রলারে করে ছেঁড়াদিয়া এলাকায় মাছ ধরতে যায়। মাঝরাতে বোটের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে তারা আটকা পড়ে। ভোরে আরাকান আর্মি এসে সবাইকে ধরে নিয়ে যায়।”তিনি বলেন, এই ঘটনায় পুরো জেলে সমাজ চরম আতঙ্কে রয়েছে।
এদিকে মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক’ জানিয়েছে, ২৮ অক্টোবর থেকে আরাকান আর্মির উপকূলীয় নিরাপত্তা ইউনিট সমুদ্রপথে টহল জোরদার করেছে। টহলের সময় আরাকান রাজ্যের জলসীমা অতিক্রম করেছে—এমন অভিযোগে কয়েকটি বাংলাদেশি ট্রলার শনাক্ত করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ১৮৮ বাংলাদেশি জেলে ও ৩০টি নৌকা আটকের পর পরবর্তীতে মুক্তি দেওয়া হয়।
সবশেষ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের দুটি ট্রলারসহ ১২ জেলে আটক করার খবরটিও প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
সেন্টমার্টিন ফিশিং ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আজিম উদ্দিন বলেন, “এর আগেও দেড় শতাধিক জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। অনেকেই এখনও তাদের হেফাজতে। এখন নতুন করে ১২ জনকে ধরে নেওয়ায় সেন্টমার্টিনের জেলেদের মধ্যে ভয়-উদ্বেগ আরও বেড়েছে।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, “আমরা ঘটনাটি জানার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ট্রলার মালিক ও বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, গত ১১ মাসে (গত বছর ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত) নাফনদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় টহলের সময় মোট ৩২৮ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। বিজিবির মধ্যস্থতায় কয়েক দফায় ১৮৯ জেলে ও ২৭টি ট্রলার ফেরত আনা গেলেও এখনও ১৬৪ বাংলাদেশি জেলে এবং ২২টি ট্রলার রাখাইন রাজ্যের কারাগার ও হেফাজতে বন্দি রয়েছে।
