নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী–স্থানীয় সংঘর্ষ: আহত ২৭
যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০:২১, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ২৭ শিক্ষার্থী আহত হন।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ক্যাম্পাস সংলগ্ন আমবটতলা বাজার এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাস এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সোমবার এক নারী শিক্ষার্থী আমবটতলা বাজারের একটি দোকানে গেলে দোকানদার তাকে উত্ত্যক্ত করেন। বিষয়টি তিনি সহপাঠীদের জানালে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা দোকানদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে যান। কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে দোকানদারকে মারধর করা হয়। এরপর স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংঘর্ষের সময় স্থানীয়রা মাইকে ঘোষণা দিয়ে আরও মানুষ জড়ো হওয়ার আহ্বান জানায়। দুই পক্ষের ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্যাম্পাস এলাকা কিছু সময়ের জন্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিক হামলার মুখে পড়েন। এক সাংবাদিকের সাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়, তাদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে না পৌঁছানোয় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।
পরে রাত ৯টার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে আহত সহপাঠীদের দেখে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচারের দাবি নিয়ে চৌগাছা–ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
একই সঙ্গে তারা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হোসাইন আল মামুনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং তাদের পদত্যাগ দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, “একটি ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। আমরা চেষ্টা করেছি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেরিতে পৌঁছানোয় পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়। আমাদের বেশ কিছু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।”
টানা চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা হয় যে বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেল ৫টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাত ১টার পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিজ নিজ বাসভবনে ফিরে যান। আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার পরিদর্শন করেন উপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
