দুর্নীতি করতে ‘চাই না’ ও ‘চাই’র মাঝখানে একটা ফাঁক আছে
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮:০৩, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতি ‘চাই না’ ও ‘চাই’র মাঝখানে একটা ফাঁক আছে বলে মনে করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, আজ এখানে যদি একটা গণভোট করি, আমরা কে কে দুর্নীতি চাই না, তাহলে বলুন; কতভাগ ভোট পড়বে ‘চাই না’র পক্ষে? শতভাগ। শতভাগ যদি ‘চাই না’র পক্ষে ভোট পড়ে, তাহলে দুর্নীতি হয় কীভাবে? তাহলে দেখা যাচ্ছে, আমাদের দুর্নীতি ‘চাই না’ ও ‘চাই’ এর মাঝখানে একটা ফাঁক আছে। ওই ফাঁকটা পূরণ করতেই গণশুনানির এই অনুষ্ঠান।
‘আসুন দুর্নীতির বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হই’-স্লোগান নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত দপ্তর সংস্থাসমূহে সেবার মান বৃদ্ধি, সেবাগ্রহিতাদের হয়রানী রোধ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে দুদকের ১৯২ তম গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী বলেন, সেবাগ্রহিতাগণ তাদের প্রাপ্য সেবা পেতে তারা আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করেন। সেবাদাতাগুলো সেবা দেওয়ার জন্য আইনগতভাবে বাধ্য।
এছাড়া দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম, দুদক মহাপরিচালক(প্রতিরোধ) মো: আক্তার হোসেন ও পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান বক্তৃতা প্রদান করেন।
উক্ত গণশুনানিতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন সভাপতিত্ব করেন।
গণশুনানিতে বিভিন্ন সরকারি অফিসে সেবা প্রাপ্তিতে হয়রানীর শিকার বা সেবা বঞ্চিত সংক্ষুব্ধ জনসাধারণ তাদের অভিযোগসমূহ হবিগঞ্জ জেলার সকল সরকারি দপ্তর প্রধানদের উপস্থিতিতে কমিশনের সামনে তুলে ধরেন। একই সাথে সেবা বঞ্চিত জনসাধরণের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে দুদক কর্তৃক তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সেবা বঞ্চিত জনসাধরণের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে দুদক কর্তৃক তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উক্ত গণশুনানিতে দুদকের তফসিল ভুক্ত ৮১টি অভিযোগের শুনানি হয়। যার মধ্যে ৩টি অভিযোগ অনুসন্ধানে নেয়া হয়, ৬০টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয় এবং বাকি অভিযোগসমূহ প্রতিবেদন দাখিল সাপেক্ষে নিষ্পত্তি করা হবে।
সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মাঝে সততা, নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা ও মূল্যাবোধ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করাই গণশুনানির মূল অভিপ্রায়।
এর আগে গণশুনানিতে জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণের জন্য হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহব্যাপী মাইকিং, পোস্টার, লিফলেট বিতরণ, বুথ স্থাপন করে অভিযোগ সংগ্রহ, অভিযোগ বাক্স স্থাপনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুদকের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হয়েছিল।
গণশুনানি সরাসরি সেবা দাতা কর্মকর্তা-কর্মচারী, সকল শ্রেণি-পেশার নাগরিক এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, স্কাউট- বিএনসিসি সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
