২৩ ভবনকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা, শুরু হচ্ছে অপসারণ
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬:৪২, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৭:৪৭, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
সিলেট নগরীর ২৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সিলেট নগরীর ২৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ও শনিবার (২২ নভেম্বর) কয়েক দফা ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে সৃষ্টি হওয়া আতঙ্কের মধ্যে এমন ঘোষণা দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
প্রায় ছয় বছর আগে সিলেট নগরের এসব ভবনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তখনই এগুলো ভেঙে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হলেও দীর্ঘদিন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তির পর অবশেষে ভবনগুলো অপসারণে এগোলো প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, সিলেট নগরীর ২৩টি বিপজ্জনক ভবন ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই এসব ভবন ভেঙে ফেলা হবে। সরকারি-বেসরকারি বেশ কয়েকটি ভবনও এর মধ্যে রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই অপসারণের কাজ শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরের সংকীর্ণ সড়ক উদ্ধারকাজ ব্যাহত করতে পারে। এজন্য আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিসিকের তালিকাভুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো
কালেক্টরেট ভবন-৩, সমবায় ব্যাংক ভবন মার্কেট, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সাবেক কার্যালয়, সুরমা মার্কেট, সিটি সুপার মার্কেট, মিতালী ম্যানশন, আজমীর হোটেল, মধুবন মার্কেট, মান্নান ভিউ, শুভেচ্ছা-২২৬, সরকার ভবন ৫১/৩, নবপুষ্প-২৬/এ, রাজা ম্যানশন, কিবরিয়া লজ, মিতালী–৭৪, মেঘনা-এ-৩৯/২, পাঠানটুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওয়ারিছ মঞ্জিল, হোসেইন মঞ্জিল, শাহনাজ রিয়াজ ভিলা, নূরানী-১৪, পৌর বিপনী ও শপিং সেন্টার, প্রভাতী ও শ্রীধরা হাউসসহ মোট ২৩টি স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত।
কেন এত ভয়াবহ ঝুঁকি?
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তৃতীয় ভূমিকম্প জোনে থাকা সিলেটে প্রায় ১ কোটি মানুষের বসবাস। সমীক্ষায় দেখা গেছে—৭% ভবন নির্মিত হয়েছে অনুমোদন ছাড়া, ৯% পরিকল্পনা ছাড়া, ৪০% ভবন নির্মাণ হয়েছে মাটি পরীক্ষা ছাড়াই।
প্রকৌশলীদের মতে, সিলেটের ভবনগুলোর ৪০% ৬ থেকে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, আর ৪৪% ভবন ৫ থেকে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করতে সক্ষম। বাকি স্থাপনাগুলোর ভূমিকম্প প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ও এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মুশতাক আহমেদ বলেন, সিলেট শহরের প্রায় ৪২ হাজার ভবনের বেশিরভাগই দুর্বল। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেই এগুলোর বড় অংশ ধসে পড়তে পারে। এতে বিপুল প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আগের উদ্যোগ কেন থেমে গেল?
২০১৯ সালের কম্পনের পর সিসিক ৪২ হাজার বহুতল ভবনের ভূমিকম্প-সহনীয়তা পরীক্ষার উদ্যোগ নিলেও অর্থ সংকটে তা আটকে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা কিছু ভবন সামান্য সংস্কার করা হলেও অধিকাংশই আগের মতোই রয়ে গেছে—ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর সংস্কার ও অপসারণের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। খুব শিগগিরই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
