অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারকে প্রতারণার চেষ্টা!
উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫:৩০, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
চট্টগ্রামের হাটহাজারি থেকে কথিত ‘অপহৃত’ মো. আবু হানিফকে (৫৫) উদ্ধার করেছে কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ। ছবি: সমাজকাল
চট্টগ্রামের হাটহাজারি থেকে কথিত ‘অপহৃত’ মো. আবু হানিফকে (৫৫) উদ্ধার করেছে কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানা পুলিশ। পরে জানা গেছে, তিনি নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিলেন।
টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কুরাবুইজ্জা পাড়ায় শনিবার (২২ নভেম্বর) গভীর রাতে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানটি চালানো হয়। আবু হানিফ হাটহাজারি উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া কাজীপাড়ার বাসিন্দা।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ জায়েদ নূর জানান, হাটহাজারী মডেল থানায় করা জিডির (নং–১৪৮৫) সূত্র ধরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় চার ঘণ্টার অনুসন্ধান ও অভিযানে হানিফকে উদ্ধার এবং অপহরণ নাটকের ভিডিও, দুটি মোবাইল ফোন ও পাঁচটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ওসি (তদন্ত) হিমেল বড়ুয়া ও ওসি (অপারেশন) কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হানিফ স্বীকার করেছেন, অপহরণের কথা বলে পরিবার থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টায় ছিলেন তিনি। মুক্তিপণের টাকা হাতে পেলেই দ্বিতীয় স্ত্রী ও সৎ দুই সন্তানকে নিয়ে মালয়েশিয়া পালানোর পরিকল্পনা ছিল তার।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে সম্প্রতি টেকনাফের সাবরাংয়ের নুরুল হাকিমের বিধবা মেয়ে সানজিদা বেগমকে (৩৫) দ্বিতীয় বিয়ে করেন হানিফ। ১৩ নভেম্বর সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আবু হানিফ স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে যান। দীর্ঘ ৩০ বছরের দাম্পত্য অশান্তি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং দ্বিতীয় বিয়ের কারণে নিজের অবস্থান গোপন রেখে অপহরণের গল্প সাজান বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি।
পরিকল্পনা অনুসারে, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ভাই (শ্যালক) কাসিমকে দিয়ে হাত-পা বেঁধে সমুদ্রপাড়ের ঝাউবাগানের গাছে বাঁধা অবস্থায় ভিডিও ধারণ করান হানিফ। পরে সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন তিনি।
ওসি জায়েদ নূর বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত জটিলভাবে সাজানো হয়েছিল। প্রযুক্তির ব্যবহার ও মাঠ পর্যায়ের অভিযানে দ্রুতই আমরা সত্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছি’।
হানিফকে তার ভাইয়ের জিম্মায় দিয়ে পুরো বিষয়টি হাটহাজারী থানাকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের এমন দ্রুত ও দক্ষ অভিযান এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
