অক্সিজেন আনতে গিয়ে উধাও হাসপাতালের স্টাফ, প্রসূতির মৃত্যু
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০:৪৩, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৪:৩৭, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোরে মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারের পর অক্সিজেনজনিত অবহেলায় সাথী আক্তার পরি (২২) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে—সিজারকারী চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ঘটনার পরপরই কৌশলে পালিয়ে যান।
শনিবার (২২ নভেম্বর) রাতের এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিক ভাঙচুর করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মারা যাওয়া সাথী আক্তার পরি উজিরপুর উপজেলার ভরসাকাঠী গ্রামের ইমন আকনের স্ত্রী।
পরির শ্বশুর নজরুল আকন জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে প্রসব বেদনা শুরু হলে সাথীকে মদিনা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। প্রথমে চিকিৎসক রাজিব কর্মকার নরমাল ডেলিভারির আশ্বাস দিয়ে পাঁচ হাজার টাকার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। পরে তিনি সিজারের সিদ্ধান্ত নেন। পরিবার আপত্তি জানালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বরিশাল থেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এনে অপারেশন করানোর আশ্বাস দেন।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সিজারের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু অপারেশনের পরপরই সিজারকারী চিকিৎসক ক্লিনিক ছেড়ে চলে যান। আধা ঘণ্টা পর পরিকে বেডে দিলে দেখা যায়—তার শরীর সাদা হয়ে গেছে, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। পরিবার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা জানায় ক্লিনিকে অক্সিজেন নেই; বাইরে থেকে আনতে হবে। এরপর এক স্টাফ অক্সিজেন আনতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।
নজরুল আকন বলেন, “পরির অবস্থা আরও খারাপ হলে আমরা চিৎকার শুরু করি। চিকিৎসক রাজিব কর্মকার এসে পরীক্ষা করে কিছু না বলে ক্লিনিক থেকে বের হয়ে যান। এরপর স্টাফরাও একে একে পালিয়ে যায়। পাশের একটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসক এনে পরীক্ষা করালে বলা হয়—পরি মারা গেছে।”
ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সিজারকারী চিকিৎসক ডা. সমিরন হালদারের মুঠোফোনও বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহীন জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
