শিক্ষক নিয়োগে মেধার দাবিতে ৩৬ ঘণ্টার হরতাল
রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪:৪৮, ২০ নভেম্বর ২০২৫
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ‘কোটা নয়, মেধাকে প্রাধান্য’—এই দাবিতে জেলাজুড়ে চলছে ৩৬ ঘণ্টার হরতাল। ছবি: সংগৃহীত
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ‘কোটা নয়, মেধাকে প্রাধান্য’—এই দাবিতে জেলাজুড়ে চলছে ৩৬ ঘণ্টার হরতাল। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ছয়টা থেকে শুরু হওয়া হরতাল চলবে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় দিনের সকাল থেকেই হরতালের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে জেলার সর্বত্র।
হরতালের সমর্থনে বনরূপা, তবলছড়ি, দোয়েল চত্বরসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৮–১০টি স্থানে সকাল থেকেই অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে স্কুল–কলেজ, অফিস আদালতে যাতায়াতকারী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সপ্তাহের শেষদিকে পর্যটকদের ভিড় থাকে রাঙামাটিতে; কিন্তু চলমান হরতালে শহরে অবস্থানরত পর্যটকেরাও দিশেহারা।
হরতালের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলছে। এতে রাঙামাটির সঙ্গে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। শহরের একমাত্র সিএনজি সার্ভিস বন্ধ থাকায় বিকল্প যানবাহনও নেই। শপিংমল, দোকানপাটও কার্যত বন্ধ।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করে কোটাবিরোধী ঐক্যজোট। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী ইব্রাহিম রুবেল, রাকিব হাসান, নুরুল আলম, রেজাউল করিম রাজু, রুবেল হোসেন ও ইমাম হোসাইন বক্তব্য রাখেন।
তাদের অভিযোগ, পার্বত্য জেলা পরিষদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ কোটা-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন অমান্য করে নিজস্ব আইন অনুযায়ী ২১ নভেম্বর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা ঘোষণা করেছে। এটি প্রচলিত আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী বলে দাবি করেন তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে সরকারি চাকরিতে ৯৩% মেধা, ৫% মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ১% প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের কোটা নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত কোটায় প্রার্থী না পাওয়া গেলে পদগুলো মেধা তালিকায় পূরণ করার নিয়মও রয়েছে।
কিন্তু পার্বত্য জেলার হস্তান্তরিত বিভাগে এখনো ৭০% উপজাতি কোটা বহাল আছে—যা আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তারা অভিযোগ করেন, নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ–বাণিজ্য বহুদিন ধরেই চলছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে শূন্যপদ ও কোটার সংখ্যা স্পষ্ট উল্লেখ না করাকেও তারা নিয়মবহির্ভূত বলেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর পর দেশব্যাপী কোটা সংস্কার হলেও পার্বত্য এলাকায় এখনো পুরোনো প্রথা চলছে। আমরা মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ চাই।’
হরতাল চলাকালীন ২০ ও ২১ নভেম্বর জেলার সরকারি–বেসরকারি সব অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন ও ব্যবসা–প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জরুরি সেবার যানবাহন হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, আগামী শুক্রবার ২১ নভেম্বর রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হরতালকে কেন্দ্র করে এ পরীক্ষার পরিবেশ ও নিয়মিত কার্যক্রম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
