পার্বতীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ আলুর গুদাম
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩:১০, ১১ নভেম্বর ২০২৫
পার্বতীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ আলুর গুদাম। ছবি: সমাজকাল
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে চরম অব্যবস্থাপনা। উপজাতীয় শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে এখন একজনও উপজাতীয় শিক্ষার্থী নেই। তিনটি শ্রেণিকক্ষে চলছে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস, তাও মাত্র ১৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ পরিণত হয়েছে আলুর কোল্ড স্টোরেজে। পুরো কক্ষজুড়ে ছড়িয়ে রাখা রয়েছে আলুবীজ। মেঝে পর্যন্ত ভর্তি আলুর বস্তা দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাসরুম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজাতীয় শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা ভেবে ১৯৯১ সালে দুই ভাইয়ের দান করা জমিতে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু এখন এটি উপজাতীয় নয়, বরং অব্যবস্থাপনার এক দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। স্কুলের একটি কক্ষ নিয়মিতভাবে আলু সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজের মতো করে স্কুল চালান, অভিভাবকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।”
এ বিষয়ে বনকরবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, “আলুবীজ আমার নয়, স্কুলের আয়া রেহেনার। তিনি চুক্তিভিত্তিক কর্মী, আলু রাখার বিষয়টি আমি জানি, সরানোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিয়ে তিনি দাবি করেন, “স্কুলে ১০৩ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে।” তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, মাত্র ১৩ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে একজনও উপজাতীয় নয়।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক সরকার বলেন, “বিষয়টি প্রথমবার জানতে পারলাম। তদন্ত করে শ্রেণিকক্ষ খালি করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
