বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাঘাটায় ১৪৪ ধারা
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২:০৫, ৯ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ০২:৫১, ১০ নভেম্বর ২০২৫
আসছে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। আজ রবিবার (৯ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর মো. আল কামাহ তমাল।
১৪৪ ধারার আদেশে বলা হয়েছে—সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার বিকেলে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা নাহিদুজ্জামান নিশাতের সমর্থকেরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রাটি সাঘাটা উপজেলার ডাকবাংলো এলাকায় পৌঁছালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফারুক আলমের সমর্থকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।পরে তা ধাওয়া–পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়। সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন এবং কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও মীর মো. আল কামাহ তমাল বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”
আদেশে বলা হয়েছে—এই সময়ের মধ্যে অস্ত্র বহন বা প্রদর্শন, লাঠি বা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার, মাইকিং বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার, পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমবেত হওয়া, সভা-সমাবেশ ও মিছিল আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
গাইবান্ধা–৫ (সাঘাটা–ফুলছড়ি) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ফারুক আলম। অন্যদিকে, দল থেকে বহিষ্কৃত জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাহিদুজ্জামান নিশাত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
গত ২৪ অক্টোবর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশাতকে বহিষ্কার করা হয়। তবু তিনি নিজস্ব ব্যানারে প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে জানান সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে সাঘাটা উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক। পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”
