চট্টগ্রামে সরোয়ার হত্যায় গ্রেপ্তার ২
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৮:৩২, ৭ নভেম্বর ২০২৫
সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহতের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলিতে সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহতের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার আলাউদ্দিন ও হেলাল- দুজনই এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
শুক্রবার দুপুরে নগরীর চান্দগাঁও র্যাব ক্যম্পে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান দুজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান।
র্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, “আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়েছে, সরোয়ার বাবলাকেই গুলিটা করা হয়েছে। যেহেতু তার ঘাড়ের মধ্যেই অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে এবং এরশাদ সাহেব খুব কাছাকাছি ছিলেন, যে কারণে তার গায়েও গুলি লেগেছে।”
গত বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী খোন্দকীয়া পাড়ায় গণসংযোগ করছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। এসময় এলোপাথারি গুলিতে নিহত হন পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন বাবলা। আহত হন এরশাদ উল্লাহসহ চারজন।
এ ঘটনায় সরোয়ারের বাবা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে শুক্রবার বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। এ মামলায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার আলাউদ্দিন ও হেলাল যথাক্রমে ৫ ও ৬ নম্বর আসামি।
বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগে দুর্বৃত্তরা কয়জনকে নিশানা করেছিল তা এখনো র্যাবের কাছে স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন বাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, “এখানে টার্গেট দুজন, নাকি একজন- সেটা এখনও পরিষ্কার নয়, তদন্ত চলছে। উল্লেখযোগ্য দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে পারলে মূল ইনটেনশন কী, সেটা জানা যাবে।”
সেদিন চার থেকে পাঁচজন গুলি চালিয়েছে বলে জানান র্যাব-৭ অধিনায়ক হাফিজুর।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সরোয়ার বাবলার সাথে ছোট সাজ্জাদের একটা কনফ্লিক্ট আগে থেকেই চলমান আছে। এর আগেও বাকলিয়াতে এবং পতেঙ্গা সৈকতে তাকে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। যেহেতু বাবলা মারা গেছে এবং ছোট সাজ্জাদের সাথে তার কনফ্লিক্ট ছিল। সেহেতু সন্দেহ তার দিকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।”
র্যাব অধিনায়ক হাফিজুরের ভাষ্য, “সম্পূর্ণ তদন্ত না করে এ বিষয়গুলো ধারণামূলকভাবে একজনকে সরাসরি অপরাধী বলাটা ঠিক হবে না।”
এ ব্যাপারে আলাউদ্দিনের স্ত্রী দোলা সাংবাদিকদের বলেছেন, আলাউদ্দিন ইট বালির ব্যবসা করেন। ব্যবসার কারণে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আলাউদ্দিন বাসায় ছিলেন।
আলাউদ্দিন বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত দাবি করে তার স্ত্রী বলেন, “একবার আওয়ামী লীগ করার অভিযোগ তুলে আমার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। এবার আবার মিথ্যা অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
এদিকে র্যাব কার্যালয়ের সামনে হেলালের মামা মো. ফারুক দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হেলাল সম্পৃক্ত নয়। তিনি ১৭ দিন আগে জামিনে কারগারমুক্ত হয়েছেন।
