পার্বতীপুরে বৃষ্টি-বাতাসে নুয়ে পড়েছে ধান, সবজির ক্ষতি
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২:০৯, ৬ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ২২:১১, ৬ নভেম্বর ২০২৫
পার্বতীপুরে বৃষ্টি ও বাতাসে নুয়ে পড়েছে আমন ধান। ছবি: সমাজকাল
সম্প্রতি অকাল বৃষ্টি ও বাতাসে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নিচু জমির ৭৪ হেক্টর আমন ধান নুয়ে বা হেলে পড়েছে। মৌসুমের শেষ সময়ে প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ ৮১০ কৃষককে হতাশাগ্রস্ত করে তুলেছে। এছাড়া ৪ হেক্টর সবজি ও ৩ হেক্টর আলুর ক্ষেত আক্রান্ত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১৫ আলুচাষি এবং ৬৫ জন সবজিচাষি শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ২৮ হাজার ৮৫২ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হয়েছে। রবি সবজি চাষাবাদ হয়েছে ৫২৩ ও আলু ১০৫ হেক্টর জমিতে। বৃষ্টি ও বাতাসে ৭৪ হেক্টর জমির ধান নুয়ে বা হেলে পড়েছে এবং সবজির ক্ষতি হয়েছে ৪ হেক্টর ও আলু ৩ হেক্টর। তবে চাষিদের মতে, এর পরিমাণ অনেক বেশি। ইতোমধ্যে নিচু জমির ও আগাম জাতের ধান পাকতে শুরু করেছে। বেশিরভাগ জমির ধান আধাপাকা হয়েছে। বিশেষ করে আলুচাষিরা আগাম জাতের ধান চাষ করে থাকেন।
উপজেলার ৭নং মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আমবাড়ী বড়দল গ্রামের শ্রী হাসদা বলেন, ‘আমি বর্গাচাষি। বৃষ্টি এবং বাতাসে আমার চার বিঘা জমির পাকা আমন ধান নুয়ে পড়েছে এবং এক বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে গেছে।’
একই গ্রামের পূরবী টুডু বলেন, ‘অসময়ের এই বৃষ্টি ও বাতাস অনেক ক্ষতি করেছে। আমার ১ বিঘা রোপা আমন জমিতে নুয়ে পড়ায় গরু ও ছাগলকে কেটে দিয়েছি।’

বড়দল গ্রামের মাতি মার্ডি বলেন, ‘আমার ১ বিঘা জমির আধাপাকা আমন ধান বিছানার মতো শুয়ে বা নুয়ে পড়েছে। বাকি ১ বিঘা ফসল কেটে গরু-ছাগলকে খাওয়ানো হয়েছে।’
রামপুর ইউনিয়নের হুগলিপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দুই বিঘা জমিতে জিরা ধান আবাদ করেছি। সেই রোপা আমন ধান এখন পানিতে ভাসছে। অসময়ের এই বৃষ্টি ও বাতাসে জিরা আবাদ করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।’
উপজেলার ৬ নং মোমিনপুর বড় হরিপুর ম্যাড়েয়া এলাকার কয়েকজন আলুচাষি বলেন, ইতোমধ্যে তারা আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেছেন। হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় তাদের সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আলু লাগাতে তাদেরকে আরও অপেক্ষা করতে হবে।
৩নং রামপুর ইউনিয়নের বাসুপাড়া গ্রামের আবু সালেম বলেন, চলতি রবি মৌসুমে তিনি ১ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ, মরিচ এবং ১ বিঘা জমিতে কফি চাষ করেছেন। অসময়ের বৃষ্টি ও বাতাসে তার সব ফসল বিনষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে জমি প্রস্তুত করতে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে।
পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর বলছে, কৃষকদের সতর্ক ও পরামর্শ দেওয়ার পর কৃষকেরা তাদের জমিতে হেলে পড়া ধান খোপা (আঁটি) করে বেঁধে দিচ্ছেন। ফলে হেলে পড়া ধানের গাছগুলো দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাকা ধানের পাশাপাশি আধাপাকা ধানের গাছও হেলে পড়ে সীমাহীন ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব হুসাইন বলেন, ‘এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এখানে আসলে মানুষের করার কিছু নেই। এই মুর্হূতে আমন ধানের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা যাবে না। অসময়ে বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে প্রায় ৭৪ হেক্টর আমন ধান হেলে নুয়ে পড়েছে এবং ৮ হেক্টর রবি সবজি ক্ষেত আক্রান্ত হয়েছে। কৃষকরা জমিতে থাকা পানির ওপর হেলে পড়া ধানের গাছ দ্রুত সময়ের মধ্যে আঁটি মতো করে বেঁধে দিতে পারলে ধান নষ্টের হাত থেকে রক্ষা পাবে।’
