আমজাদ হোসেন
জামায়াত ধর্মের নামে প্রতারণা করছে
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬:৪৩, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এখন ইসলামকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে। তারা ধর্মের নামে প্রতারণা করছে।’
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে দিনব্যাপী গণসংযোগ শেষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমজাদ হোসেন বলেন, ‘ইসলামের মূল চেতনা ধ্বংস করছে তারা। ইসলাম শান্তির ধর্ম, এই ধর্মকে ব্যবহার করে যারা রাজনীতি করে, তারা প্রকৃত অর্থে ইসলাম ও জাতির শত্রু।’
তিনি আরও বলেন, ‘কঠিন সময়ে আজ যারা ধর্মের ব্যবসা করে রাজনীতি করছে, তাদের কাউকে রাজপথে দেখা যায়নি। তারা শুধু নিজেদের স্বার্থে ইসলামকে ব্যবহার করে। বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। আজকে বাংলাদেশে যারা ইসলামের নামে বিভাজন সৃষ্টি করছে, তারা ইসলামের নয়, নিজেদের ক্ষমতার রাজনীতি করছে। ইসলাম কোনো বিভাজন শেখায় না, বরং ঐক্যের কথা বলে। কিন্তু জামায়াত আজ সেই ঐক্যের জায়গায় বিভাজন সৃষ্টি করছে। তারা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গত ১৭ বছর আমি রাজপথে আছি। আন্দোলনের জন্য ১৯টি মামলার আসামি হয়েছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য লড়েছি। কিন্তু কিছু মানুষ এখন ধর্মকে ঢাল বানিয়ে রাজনীতি করছে। তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বলে, আমাদের ভোট দিন, জান্নাতে যাবেন। ইসলাম কখনো মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় দেয় না। অথচ তারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের রাজনীতি করছি। মানুষের ভোট ও কথা বলার অধিকার আমরাই প্রতিষ্ঠিত করেছি, ছাত্ররাই করেছে। বাংলাদেশে জনগণের যে ভোটের অধিকার রয়েছে, সেটি প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি রাজপথে আন্দোলন করছে। আমরা চাই, সামনের দিনে যার ভোট তার দেওয়ার অধিকার ফিরে আসুক।’
শেষে তিনি বলেন, ‘যারা আজ ইসলামকে ধ্বংস করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়, তারা ইতিহাসে একদিন দাগ রেখে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ খুব ভালো করেই জানে, ইসলাম রক্ষার লড়াই কখনো ভণ্ডামির মধ্যে হয় না। ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা ইসলামবিরোধী কাজ।’
এদিন গণসংযোগ কর্মসূচিতে প্রায় ৩ শতাধিক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি মটমুড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে শেষ হয় শুকুরকান্দি বাজারে। গণসংযোগে হাজারো নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
