বরিশাল–ভোলা সেতুর দাবিতে শাহবাগ অবরোধ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮:৫৫, ২৮ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১৯:৩৩, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
বরিশাল–ভোলা সেতুর দাবিতে শাহবাগ অবরোধ। ছবি: সংগৃহীত
বরিশাল–ভোলা সেতু নির্মাণসহ পাঁচটি দাবিতে ঢাকার শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভে বসেছেন ঢাকায় বসবাসরত ভোলা জেলার কয়েকশ’ মানুষ।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ব্যানার–ফেস্টুন নিয়ে তারা শাহবাগে অবস্থান নে। এসময় শাহবাগের চারদিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শাহবাগ থানার ওসি মো. খালিদ মনসুর বলেন, “আমরা তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।”
দীর্ঘদিন ধরে ভোলার মানুষের পাঁচ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে ঢাকায় এবং ভোলায় ধারাবাহিকভাবে এই আন্দোলন হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার শাহবাগে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে— বরিশাল–ভোলা সেতুর দৃশ্যমান অগ্রগতি, ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ, গ্যাসভিত্তিক শিল্প–কলকারখানা স্থাপন, ভোলায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ।
এর আগে গত ১৪ নভেম্বর ভোলায় সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখান শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। ‘আমরা–ভোলাবাসী’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা উপদেষ্টাদের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে প্রায় ২০ মিনিট ধরে অবরোধ বজায় রাখেন।
এরও আগে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে আগামী ডিসেম্বরে সেতু নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরদিন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, “সেতুর নকশার কাজই এখনো শুরু হয়নি, এটি নীতিগত সিদ্ধান্তে আটকে আছে।” এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েই এলাকাবাসী উপদেষ্টাদের অবরুদ্ধ করেন।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৪ নভেম্বরই ভোলা থেকে সেতু ভবনের উদ্দেশে লংমার্চে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী তেতুলিয়া নদী সাঁতরে বরিশালে পৌঁছান। টানা সাঁতার কাটায় এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই ঘটনাটি আন্দোলনকে আরও আলোচনায় আনতে সাহায্য করে।
শাহবাগে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের দাবি দীর্ঘদিনের এবং ন্যায়সংগত। বরিশাল–ভোলা সেতু নির্মাণে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
