শেয়ারবাজারে দরপতন থামলেও লেনদেনে ভাটা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮:২০, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রবাসী রেমিট্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বেশিরভাগ সিকিউরিটিজের দর বেড়েছে। দিনের লেনদেন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দর কমা সিকিউরিটিজের সংখ্যার তুলনায় পাঁচগুণেরও বেশি শেয়ার ও ইউনিটের মূল্য বেড়েছে। এতে ডিএসইর সবগুলো সূচক দিনশেষে উত্থানমুখী অবস্থায় থাকে। তবে সূচক উর্ধ্বমুখী হলেও লেনদেনের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় বাজারে নতুন করে অর্থপ্রবাহ কমে গেছে। সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষকদের মতে, দরবৃদ্ধি সাময়িক স্বস্তি দিলেও লেনদেনের নিম্নগতি বাজারে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত বহন করছে।
মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২৮৫টির দাম বেড়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিপরীতে কমেছে মাত্র ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম, আর অপরিবর্তিত ছিল ৪৭টি সিকিউরিটির দর। ক্যাটাগরি হিসেবে দরবৃদ্ধি পাওয়া সিকিউরিটিজগুলোর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৫৪টি, ‘বি’ ক্যাটাগরির ৭১টি এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরির ৬০টি শেয়ার ও ইউনিট রয়েছে।
এদিন বাজারে ক্রয়চাপ বেশ শক্তিশালী থাকায় তিনটি সূচকই উত্থানমুখী ছিল। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৫১ পয়েন্টে।
শরিয়াহ-ভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ১০ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩৯ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০, যেটি ব্লু-চিপ সূচক হিসেবে বিবেচিত, তা বেড়ে ১১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯০৬ পয়েন্টে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনের ধারাবাহিকতা থেমে গিয়ে দাম বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা সামান্য ফিরতে শুরু করেছে।
তবে সূচক বাড়লেও লেনদেনে ভাটা পড়া অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৭৯ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। আগের দিন সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৪১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৩৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আর তার আগের কার্যদিবসে (রবিবার) লেনদেন হয়েছিলো ৪৯২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। তিন কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেনে উল্লেখযোগ্য পতন বাজারে নতুন অর্থের প্রবাহে স্থবিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) মঙ্গলবার অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দর বাড়লেও সামগ্রিক সূচক উত্থানমুখী হয়নি। সিএসইর ১৬৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৭টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৫৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিলো ১৮টি সিকিউরিটির দর।
সূচকের হিসেবে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৫১ পয়েন্টে। আর সিএসসিএক্স সূচক ১ পয়েন্ট কমে ৮ হাজার ৫৩৬ পয়েন্টে নেমেছে। দিনে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৫২ লাখ টাকার, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য কম। এ অবস্থায় বাজারবিশ্লেষকেরা মনে করছেন, শেয়ারের দর বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ না বাড়া বাজারে স্থায়ী প্রবণতা তৈরি হয়নি, বরং বিনিয়োগকারীরা এখনো অপেক্ষার মনোভাব নিয়ে আচরণ করছে।
বাজারে অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দর বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হলেও লেনদেনে স্থবিরতা কাটছে না। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে টেকসই গতি ফিরিয়ে আনতে নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
